Main Menu

কানাইঘাটে জলমহালের লিজ নিয়ে বিভ্রান্তি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগারখাল ও ঝিংগাবাড়ি ইউপির সিমান্ত এলাকার শেওতচুরা জলমহালটির লিজ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। শাহজালাল মৎস্যজীবি সমিতি লিমিটেডের ব্যানারে জলমহালটি লিজ নেওয়ার দাবি জানান আমরপুর নয়ামাটি গ্রামের ফখর উদ্দিন।

কিন্তু তার লিজ বৈধ নয় বলে অপর পক্ষ ঝিংগারখাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও সরকারীভাবে আজও এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি।

শনিবার (১১ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঝিংগারখাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সোনা উল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ শাহজালাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষে ফখর উদ্দিন লিজ গ্রহনের জন্য মহামান্য হাইকোটে রিট পিটিশন করলে আদালত তার আবেদন স্থগিত করে শেওতচুরা জলমহালটির লিজের উপর স্থিতাবস্তা জারি করেন।

গত ০৪/০৪/২০১৯ ইং তারিখে রিট পিটিশন নং-১৬৭৫/২০১৯ ইং উচ্চ আদালতের বিচারপতি আসফাকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী মামলার নথি পর্যালোচনা করে শাহজালাল মৎস্যজীবি সমিতি লিমিটেডের পক্ষে প্রদান করা আবেদন নিম্পত্তি করে লিজ নবায়নের উপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।

মহামান্য উচ্চ আদালতের এ আদেশকে অমান্য করে সিলেটের বিজ্ঞ সরকারী কৌশলী খাদেমুল মিল্লাত মোঃ জালাল স্মারক নং (১৭) ০৬/০৫/২০১৯ ইং তারিখে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা বরাবর লিখিত মতামতে শাহজালাল মৎস্যজীবি সমিতি লিমিটেড বরাবরে ১৪২৬-১৪২৮ বাংলা সন পর্যন্ত লিজ দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করায় মাননীয় উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা আবশ্যক বলে মত প্রকাশ করেন।

এরই প্রেক্ষিতে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা শাহজালাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের কাছে জলমহাল লিজ প্রদানের আদেশ প্রদান করার কথা। যা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ও মহামান্য উচ্চ আদালতের আদেশকে অবজ্ঞার শামিল।

অপরদিকে আদালতের স্থিতাবস্থা জারি থাকার পরও শাহজালাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড মিথ্যা বানোয়াট লিজ পাওয়ার কথা বলে জলমহাল দখলের অপ-তৎপরতা চালাচ্ছে।

প্রকৃত মৎস্যজীবি না হয়েও ফখর উদ্দিন শাহজালাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির লিমিটেডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। অন্য দিকে কালাগুল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কোনো সদস্যই প্রকৃত মৎস্যজীবি নন। কালাগুল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ইসমাইল আলীর ছেলে সমিতির একজন সদস্য । তিনি প্রবাসে অবস্থান করছেন। অপর আরেক সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর আনসার বিডিপির সদস্য।

কালাগুল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর অমৎস্যজীবিরা শাহজালাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির লিমিটেডের সদস্যদের সাথে মিলিত হয়ে জলমহাল লিজ নিয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবিদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন তৎপরতায় লিপ্ত।

অমৎস্যজীবি শাহজালাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির লিমিটেড তারা নিজেদের মৎস্যজীবি উল্লেখ্য করে জলমহাল লিজ নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা তথ্য প্রদান করার ও অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে প্রকৃত মৎস্যজীবির সংগঠন ঝিংগারখাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড জলমহাল লিজ পাওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য শক্তির বলে শাহজালাল মৎস্যজীবি সমিতি লিমিটেড লিজ নেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করে।

এ নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে গত ১৩ এপ্রিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলহমালটি পরিদর্শনে এসে এলাকা ভিত্তিক মাপজোকের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। সরেজমিনে জলহমালটি পরিদর্শনে আসেন উপজেলা এসিল্যান্ড লুসিকান্ত হাজং ও মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার, সরকারী সার্ভেয়ার আব্দুল হালিম। ঐ দিন সকাল থেকে মাপ ঝোক শুরু হয়।

ঝিংগারখাল সমিতির লোকজন দাবী করেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী তাদের গ্রামের কাছে জলমহালটির অবস্থান এবং তারাই প্রকৃত মৎস্যজীবি স¤প্রদায়ের লোক। তাই জলমহালটি লিজ তারাই পাবেন। অপর দিকে শাহজালাল সমিতির পক্ষে ফখর উদ্দিন দাবী করেন তাদের গ্রামের কাছে জলমহালটির অবস্থান তাই তিনি জলমহালটি লিজ পাবেন।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসে কয়েক দফা বৈঠকের পর মাপজোকের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ শাহজালাল মৎস্যজীবি সমিতি লিমিটেডের পক্ষে মহামান্য উচ্চ আদালতে রিট পিটিশিন প্রদান করলে আদালত জলমহালের উপর স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঝিংগারখাল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, সদস্য জিয়া উদ্দিন,সিদ্দেক আলী, সোহেল আহমদ প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed