Main Menu

জাবিতে দুই ছাত্রীসহ ৭ জনকে সাময়িক বহিস্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৭ তম আবর্তনের প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে ৪৮ তম আবর্তনের নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে যান তাদের সাথে পরিচিত হতে। তারা সবাই ছিলেন পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের। কথা বলার একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ৪৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা জায়গাটি ত্যাগ করেন। সেখানে উপস্থিত থাকা জাতীয় দৈনিকের একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কিন্তু নির্যাতন- এর মতো কোন ঘটনা যাকে র‍্যাগিং এর কাতারে ফেলা যায়, তা না ঘটলেও বিষয়টি অনেকদূর গড়ায়। ৪৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের উপর ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে’ এমন অভিযোগে প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরী করে প্রক্টরিয়াল টিম। যার ভিত্তিতে দুই ছাত্রী সহ সাতজনকে সাময়িক বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৩ মার্চ রোববার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক রাশেদা আখতার এর কাছ থেকে এর সত্যতা জানা যায়।

এ বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখতে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদের ওপর নির্দেশ আছে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার।

ঘটনাস্থলে ৪৭ তম আবর্তনের প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রক্টরিয়াল টিম ১৯ জনের বিপরীতে প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরী করে। যার মধ্যে সাত জনের বিরোদ্ধে ‘সরাসরি জড়িত থাকার’ এবং ১২ জনের বিরোদ্ধে ‘সহযোগীতা’র অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান।

তিনি বলেন, ‘তারা কি উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে গেছে সেটা বড় বিষয় নয়। নবীন শিক্ষার্থীদের নির্জন বা দূরের কোনো স্থানে নেয়াই হলো অপরাধ। যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। এই অপরাধের জন্য এক বছরের বহিষ্কারের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।’

সেখানে আসলেই কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কিনা এমন প্রশ্ন তোলা হলে প্রক্টর বলেন, ‘নির্যাতনের বিষয়টি এখানে মুখ্য নয় বরং শাস্তি দেয়া হয়েছে দূরে-নির্জন স্থানে নেয়ার জন্য।’

ভুক্তভূগী এক ছাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাস্থলে প্রক্টর তাদের (দুই ছাত্রীকে) ডাক দেয়। কিন্তু তারা প্রক্টর কে চিনতে না পারায় তার ডাকে সাড়া না দিয়ে হলের দিকে চলে যায়। শুধুমাত্র এ কারণেই তাদের বহিস্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সেখানে র‌্যাগিং এর কোন ঘটনাই ঘটেনি।

অভিযুক্ত এক ছাত্র জানান, তিনি ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না। প্রক্টরিয়াল টিম আসার খবর পেয়ে সেখানে যান বিষয়টি দেখতে। পরে তিনি জানতে পারেন তিনিও সাময়িক বহিস্কার হয়েছেন।

এর বাইরে প্রতিবেদক কথা বলেন আরও চারজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা জানান, ‘র‌্যাগ দেয়া বা কোন ধরণের নির্যাতন করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা শুধুমাত্র তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম।’

এ বিষয়ে পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সভাপতি ও সহকারী প্রক্টর ড. মো. তাজউদ্দিন সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা অপরাধ করেছে, এটা সত্য। কিন্তু এই তুচ্ছ অপরাধের জেরে এতো বড় শাস্তি কখনোই সঠিক নয়। যেহেতু গুরুতর কোন ঘটনা ঘটেনি তাই আভ্যন্তরীণভাবেই বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন সেই সুযোগ দেয়নি। এতে বিভাগের স্বাধীনতাকে হেয় করা হয়।

Share





Related News

Comments are Closed