Main Menu

সুনামগঞ্জে হেযবুত তওহীদের নারী সমাবেশ স্থগিত

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে: সুনামগঞ্জে স্থানীয় ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের বাঁধার মুখে হেযবুত তওহীদের পূর্বঘোষিত নারী সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ সংগঠণটির নামে শহরে মাইকযোগে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি পূর্ববাজার জামে মসজিদে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সভা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তেঘরিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আনোয়ার হুসাইন, আলীমাবাগ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা দিলোয়ার হোসাইন, পূর্ববাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু সইদ ও একই মসজিদের মোয়াজ্জিন আব্দুল আউয়ালসহ ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সাথে জড়িত অজ্ঞাত অন্যান্য আলেমদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এর কাছে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, শুক্রবার বেলা আড়াইটা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরস্থ শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে হেযবুত তওহীদের দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে এক নারী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করত: জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে যথারীতি হল ভাড়া গ্রহন করে প্রচারনা চালায় ঐ সংগঠনের জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। তাদের শান্তিপূর্ণ ঘরোয়া কর্মসূচীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ফৌজিআরা বেগম শাম্মী ও জেলা জাসদের সভাপতি কমরেড আ ত ম সালেহসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদগন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সাধারন সম্পাদক মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, অনুষ্ঠানের আগেরদিন বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে মিথ্যা বানোয়াট তথ্যসম্বলিত একটি উদ্দেশ্যমূলক লিখিত অভিযোগ দায়ের করে হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচী বানচাল করে দেন। পরে জেলা পুলিশ সুপার ও সদর থানা অফিসার ইনচার্জ এর মৌখিক নির্দেশে প্রশাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচী স্থগিত করেন।

অন্যদিকে শুক্রবার বাদ আছর হতে এশার আজানের পূর্ব পর্যন্ত শহরে মাইকযোগে হেযবুত তওহীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালিয়ে স্থানীয় পূর্ববাজার জামে মসজিদে বাদ এশা এক সভার আহবান করে যথারীতি উস্কানীমূলক বক্তব্য রাখেন ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বজায় থাকবে বলে ঘোষনা করেছেন। অথচ ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের উস্কানীমূলক মাইকিং ও বেআইনী সভার ফলে তাদের জানমালের ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের নেতাকর্মীরা হেযবুত তওহীদের জেলা শাখার অফিস ও তাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। পরিষদের বেআইনী অপতৎপরতায় তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচী বানচাল হওয়ায় স্থানীয়ভাবে জঙ্গি অপশক্তি উৎসাহিত হবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন বলেন, আমরা সভার মাধ্যমে আগামী সোমবার সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে জঙ্গী সংগঠণ হিযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ আহবাণ করেছি। হিযবুত তওহীদ আমাদের আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনা। যেকোন মূল্যে তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য আমরা আমাদের সর্বাত্বক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

হেযবুত তওহীদের জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, হেযবুত তওহীদ মানবতার কল্যাণে নিবেদিত একটি অরাজনৈতিক আন্দোলন। এটি কোন জঙ্গী বা নিষিদ্ধ সংগঠণ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। সভা সমাবেশের অধিকার বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিক ও সংগঠনের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। কিন্তু ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ আমাদের শান্তিপূর্ণ ঘরোয়া কর্মসুচিতে বারবার প্রতিবন্ধকতা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, আমরা শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় সারাক্ষণ নিবেদিত আছি। কোন ধর্মীয় উগ্র ব্যক্তি বা সংগঠণকেই নাশকতা চালাতে দেবনা। বিষয়টি এখন কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের।

Share





Related News

Comments are Closed