Main Menu

তরুণী ধর্ষণ মামলায় ৬ দিনের রিমান্ডে দুই পুলিশ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মানিকগঞ্জে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মানিকগঞ্জের বিচারিক হাকিম গোলাম সারোয়ার শুনানি শেষে দুপুরে এই আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম বাদশা জানান, পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করলেও বিচারক ছয়দিনের জামিন মঞ্জুর করেন।

দুই আসামি হলেন- জেলার সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন এবং এএসআই মাজহারুল ইসলাম।

মঙ্গলবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করে সকাল ৯টার দিকে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।

এর আগে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী সোমবার রাতে সাটুরিয়া থানায় অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সাটুরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা সোমবার রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। পরে মঙ্গলবার ভোরে অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ ফেব্রয়ারী রোববার পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দীকী সোমবার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক লুৎফর রহমান জানান, সোমবার রাত সাড় ৮টার দিক ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরও বলেন, চার সদস্য বিশিষ্ট এই মেডিক্যাল বোর্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি রিপোর্ট দিবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন আশুলিয়া থানায় কর্মরত থাকার সময় এক নারীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জমি কেনেন। কথা ছিল, জমি বিক্রির লাভ তাকে দেয়া হবে। সেই হিসাবে ওই নারী সেকেন্দার হোসেনের কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা পান। কিন্তু টাকা না দিয়ে ঘুরাতে থাকেন। এরই মধ্যে পুলিশের এই উপপরিদর্শক সাটুরিয়া থানায় বদলি হয়ে আসেন।

গত বুধবার বিকালে এসআই সেকেন্দারের খোঁজে প্রতিবেশি এক ভাগ্নিকে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় আসেন ওই নারী। সেকেন্দার ওই নারীকে টাকা দেবে বলে তাদের সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে নিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যায় সাটুরিয়া থানার এএসআই মাজহারুল ইসলামকেও ডাকবাংলোতে নিয়ে যায় সেকেন্দার হোসেন।

সেখানে ডাকবাংলোর একটি কক্ষে টাকা পাওনাদার নারীকে আটকিয়ে রাখে তারা। আর অন্য কক্ষে ওই নারীর সাথে আসা তরুণীকে জোর করে ইয়াবা সেবন করায় পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা। এরপর ওই তরুণীকে দুই দিন ধরে সেখানে আটকে রেখে তারা তাকে ধর্ষণ করে।

Share





Related News

Comments are Closed