‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’ সংসদে যোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮টি আসন পাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সংসদে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যে ক’জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের সংসদে আসা উচিত।
আজ শনিবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার শুরুতে তিনি এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য না করলে হয়তো আরও কয়েকটি আসন তারা পেতে পারত। তারপরও একটি দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান যখন খুন ও দুর্নীতির মামলায় বিদেশে পলাতক তখন তাদের এমন ফল বিপর্যয় স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এর মধ্যেও যে কয়েকটি আসনে তারা বিজয়ী হয়েছে, আমি মনে করি গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের সংসদে আসা উচিত।
নিজ বক্তব্যে টানা তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে দেশের সকল স্তরের মানুষের সমর্থনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশবাসীর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল। দেশে শান্তি বজায় থাকলে উন্নয়ন করা যায়; সেটা আবারও প্রমাণ হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সব থেকে লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল, মানুষের মধ্যে একটা স্বতস্ফূর্ততা এবং ভোট দেয়ার জন্য আগ্রহ। বিশেষ করে এদেশের তরুণ সমাজ, যারা প্রথম ভোটার এবং নারী সমাজের।
শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচনটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কিছু কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে কোথাও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে। কোথাও তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছেন এবং তাদের এই অপকর্মের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা আছেন।
তিনি বলেন, আপনারা মাঠে-ঘাটে দেখেছেন, টেলিভিশনে দেখেছেন- কীভাবে তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল কোনোমতে নির্বাচনটা যেন বানচাল করা যায়, কিন্তু তা তারা পারেনি। এখন বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে, এই দোষটা তারা কাকে দেবে? দোষ দিলে তাদের নিজেদেরকে দিতে হয়। কারণ একটি রাজনৈতিক দলের যদি নেতৃত্ব না থাকে, মাথাই না থাকে তাহলে সেই রাজনৈতিক দল কীভাবে নির্বাচনে জয়ের কথা চিন্তা করতে পারে?
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াসহ তারেক রহমানের বিভিন্ন দুর্নীতি-অপকর্মের কথা তুলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল পলাতক আসামিকে দিয়ে রাজনীতি করতে গেলে সেখানে কী রেজাল্ট হয়- সেটাই তারা পেয়েছে। তা-ও হতো না, যদি তারা নির্বাচনে যে প্রার্থী দিয়েছে, সেই প্রার্থী নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যটা না করতো। তাহলে আরও ভাল ফল তারা করতে পারত।
বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এ থেকে তো মানুষ জানতেই পেরেছে এদের চরিত্রটা কী? এদের চরিত্র শোধরায়নি তাই বাংলার জনগণ প্রত্যাখান করেছে। তারপরও যে কয়টা আসনে তারা জিতেছে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, তাদের পার্লামেন্টে আসা প্রয়োজন। কারণ আমরা এইটুকু বলতে পারি যে, আমরা যখন সরকারে এসেছি, আমরা দেশের জন্য কাজ করেছি। জনগণের জন্য কাজ করেছি। আমরা কিন্তু কাউকে কোনো হয়রানি করতে যাইনি।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পেরেছি- এর ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জয়লাভ করেছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল- কি করবে? তারাও কিন্তু সকলে এগিয়ে এসেছিল আমাদের এই নির্বাচনে সমর্থন দেয়ার জন্য। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ার জন্য। এখানে ছাত্র-শিক্ষক-কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার-জেলে-তাঁতী, মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়- প্রত্যেকের মাঝে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, আওয়ামী লীগ এলে তারা ভাল থাকবে, আওয়ামী লীগ এলে দেশটা ভাল চলবে। আওয়ামী লীগ এলে দেশের উন্নতি হবে। এই উপলব্ধিটা তাদের মাঝে ব্যাপকভাবে দানা বেঁধে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যেকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমরা অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে এসেছি। জনগণের বিশ্বাস-আস্থাটা যে কারণে আমাদের উপরে এসেছে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি জনগণের কল্যাণে, জনগণের স্বার্থে। আর জনগণ আজ তা উপলব্ধি করতে পারে। আমাদের উন্নয়নের যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি আমরা সবসময় লক্ষ্য করি- গ্রামের মানুষ তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তার একটু সুন্দর জীবন পাবে। তারা একটু উন্নত জীবন পাবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের জীবনমান উন্নত হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রতিটি কর্মসূচি নিয়েছি।
আওয়ামী লীগের এই যৌথসভায় দলের সদ্যপ্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। বক্তব্য শেষে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
Related News
১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী একRead More
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হলেন ব্যারিস্টার সালাম
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিলেটেরRead More



Comments are Closed