Main Menu

বাংলাদেশ থেকে মাসে ৫শ’ নারী-শিশু পাচার হয়

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে ৪০০ জন নারী ও ১০০ জন শিশু (০-১৮ বছর বয়সী) ভারত-পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১০ লাখ নারী ও শিশু পাচার হয়েছে। গত দশ বছরে শুধুমাত্র ভারতেই প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি নারী ও শিশু পাচার হয়েছে। যাদের বয়স ১২ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

বুধবার (২১ নভেম্বর) ‘সার্বজনীন শিশু দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘শিশু পাচার প্রতিরোধে সমাজকে শক্তিশালী ও নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি (পিসিটিএসসিএন)’ নামক সংগঠন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পিসিটিএসসিএন একটি কনসোর্টিয়াম সংগঠন। যা ইনসিডিন বাংলাদেশ, কমিউনিটি পার্টিসিপেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি), নারী মৈত্রী এবং সোশ্যাল অ্যান্ড ইকনোমিক অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইইপি) নামক সংগঠন গুলো দ্বারা পরিচালিত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের যত শিশু মিসিং বা ট্রাফিকিং এর ঘটনা ঘটে তার মাত্র ২৭ শতাংশ দৈনিক পত্রিকায় এবং ১২ শতাংশ টিভি নিউজে দেখা যায়। ভারতের কলকাতা, হায়দারাবাদ ও মুম্বাই ভিত্তিক একটি চক্র বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তাদের একটি শক্তিশালী পাচারের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। যারা নারী, শিশু ও কিডনি পাচারে সক্রিয়। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের প্রদত্ত মানবপাচারের মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭৮ জন শিশু পাচার হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে ৬০ জন। আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মাসিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একই সময়ে ১২৩ জন শিশুপাচার হয়েছে এবং একজন পাচারকারীকেও ধরা সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করে সংগঠনটির শিশু প্রতিনিধি শারমিন সুলতানা স্বর্ণা ও রোকন। তারা বলেন, নারী ও শিশু পাচারের হুমকির কারণে আমাদের দেশের শিশুরা বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তানেরা ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভালো বেতনের কাজ দিয়ে তাদের প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারের সম্মতি নেয়া হয় এবং তারপর তাকে পাচার করা হয়। শিশু তার পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে বলে সে অনেক সময় এই নির্মম পরিণতি ও অমানবিক জীবন মেনে নেয়।’

তারা আরও বলেন, ‘পাচার নিয়ে পৃথিবীতে বিশাল বাণিজ্য রয়েছে যার উদ্দেশ থাকে যৌনদাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রম, বাধ্যতামূলক শোষণমূলক শ্রম ও অঙ্গ পাচারের মত কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন। এটি শিশু অধিকারের সর্বোচ্চ লংঘন বলে বিবেচিত হয়। তারা মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মর্যাদা, সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।’

এ সময় পিসিটিএসসিএন’র পক্ষ থেকে নারী ও শিশু পাচার রোধে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়।

উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- সকল ধরনের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ। শিশুর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি কাজের সমন্বয় ও জোরদার। শিশু অধিকার সনদ ও শিশু আইনের আলোকে শিশুর বিকাশের ও সুরক্ষার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ। শিশুদের বিষয়টি সংযুক্ত করে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ বাস্তবায়ন। কর্মপরিকল্পনার তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা। শিশুপাচার মোকাবিলায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা ২০১৭ এ বর্ণিত মানব পাচার দমন সংস্থা, তহবিল ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কে কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় শিশুদের অন্তর্ভূক্ত করা। উদ্ধারকৃত শিশুদের জন্য টেকসই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিচালিত করা। শিশু আইন ২০১৩’র অধীন শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো মেনে চলা। এবং সচেতনতা অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রচারণা কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে একটি কাঠামো গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্সিদিন বাংলাদেশ ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম খান, এসইইপি’র সমন্বয়কারী মো. জাহিদ হোসেন, সিপিডি’র সমন্বয়কারী শরীফুল্লাহ রিয়াজ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) ছিল জাতিসংঘের গৃহীত সার্বজনীন শিশু দিবস। যেটি হাজার ১৯৫৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৮৯ সালে আজকের এই দিনে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হয়। যেখানে ১৯২টি সদস্য ভুক্ত দেশ স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ সেখানে একটি প্রথম সারির দেশ। এবারে সার্বজনীন শিশু দিবস এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতিটি শিশুর নিশ্চিত হোক শিক্ষা, থাকুক শিশু সব আঘাত থেকে নিরাপদ এবং বিকশিত হোক তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা।’

Share





Related News

Comments are Closed