চকবাজারে নকল প্রসাধনী কারখানার সন্ধান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশী ও বিদেশি বিভিন্ন নামী-দামি কোম্পানির পণ্য নকল উৎপাদনকারী কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারখানাটিতে তৈরি করা হতো বিশ্বখ্যাত পণ্য জনসন, লেকমি, লরিয়েলের নকল পণ্য সামগ্রী। নিম্মমানের কালি ও রঙের সমন্বয়ে এসব পণ্য তৈরির পর তা বাজারে বিভিন্ন দোকান ও সুপারশপে বিক্রি করা হতো।
সোমবার (৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত রাজধানীর চকবাজারে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে পাঁচটি নকল পণ্য তৈরির কারখানায় অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য জব্দ করা হয়। যার মধ্যে শিশুদের সাবান, শ্যাম্পু, লোশনসহ বিভিন্ন কোম্পানির কসমেটিকস পণ্য।
এসময় ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি চার কোটি টাকা মূল্যের নকল কসমেটিকস জব্দ এবং আটটি কারখানা সিলগালা করে দেয় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ সারওয়ার আলম।
ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, এসব নকল কারখানায় তারা জনসন, লেকমি, লরিয়েল, সেনসোডাইন, কিস বিউটিসহ নানা ধরনের নামী-দামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী তৈরি করতো। পরে সেগুলো গুদামজাত করতো এবং সময় বুঝে বাজারে ছেড়ে দিতো। এখানে আমরা ৪২ ধরনের কসমেটিকস পণ্য পেয়েছি, যার সবটাই নকল। এসব নকল পণ্য তৈরির পর তারা যেসব দোকানে ও সুপারশপে ছাড়তো তার সন্ধ্যানও আমরা পেয়েছি। জনসনের যে পণ্যগুলি রয়েছে সেগুলো কিন্তু এখনো বাংলাদেশে শিশুদের জন্য ব্যবহার করা হয়। তারা এসব পণ্য নকল করে বাজারে ছাড়তো।
তিনি আরও বলেন, অভিযানকালে একই মালিকের দুটি কারখানার সন্ধ্যান মেলে। সেই কারখানার মালিক পলাতক রয়েছেন। তাকে আটক করা সম্ভব না হলেও তার ম্যানেজারকে আমরা আটক করেছি। চকবাজারে পাঁচটি কারখানায় অভিযানকালে হাতেনাতে পণ্য তৈরির সময় ১১ জনকে আটক করা হয়। তাদের ৬ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি এক মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত জেল দেয়া হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেয়া বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার শহীদুল ইসলাম জানান, তারা মূলত এসব পণ্যের কাঁচামাল চীন থেকে নিয়ে আসার পর এখানে তৈরি করছে। তারা মূলত মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব কাঁচামাল আনতো। কিন্তু তারাতো মিথ্যা ঘোষণায় আনা এসব পণ্যের ছাড়পত্র পাওয়ার কথা নয়, তারপরও তারা কাউকে না কাউকে ম্যানেজ করে এসব করেছে। এসব পণ্যের ক্রেতা রাজধানীর বিভিন্ন নামী-দামি মার্কেটের দোকানী এবং সুপারশপের মালিক। তারা তাদের কাছে অর্ডার দিয়ে এসব পণ্য তৈরি করে নিতো।
তিনি আরও বলেন, চকবাজার সম্পর্কে প্রচলিত আছে- এ বাজারে যেকোনো পণ্য সুলভ মূল্যে বা পাইকারী দরে পাওয়া যায়। আর এর প্রমাণও পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিম্মমানের কালি আর ক্ষতিকর রঙ মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানী কসমেটিকস। নামী-দামি কোম্পানীর লিপস্টিকও তৈরি করা হতো এই কারখানায়। পরে সেগুলো ইচ্ছেমতো বাজারে ছাড়ার আগে বিভিন্ন কোম্পানীর লোগো বা লেভেলিং করা হতো। তারা এসব এত নিঁখুতভাবে তৈরি করছে দেখে বোঝার উপায় নেই এসব নকল পণ্য। নকল এসব পণ্যের জন্য তৈরি করা হয় বারকোট ও মেয়াদউত্তীর্ণ মনোগ্রামও। তারা এখানে জনসন কোম্পানীর শ্যাম্পু, সাবান, ফেসওয়াশ, লোশনও তৈরি করতো।
Related News
সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কানাডায় পাঠানোর নামে প্রতারণা, ভুয়া ভিসা-পাসপোর্ট তৈরি, অর্থ আত্মসাৎRead More
জাতীয় জনতা পার্টির জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠিত
Manual7 Ad Code বিশেষ সংবাদদাতা: মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর জেনারেল মহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর প্রতিষ্ঠিতRead More



Comments are Closed