এসআইইউ শিক্ষার্থীদের মিছিল ও সমাবেশ
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক জটিলটা নিরসন ও বহিরাগত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমাবেশ ও মশাল মিছিল করেছে।
শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এসআইইউ) এর সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সমাবেশ ও মশাল মিছিল করে। মিছিলটি নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্ট হয়ে সিটি পয়েন্টে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সাধারণ শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আন্দোলনরত দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং প্রশাসনকে ৫ দফা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে না নেওয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর কর্মসূচী পালনের ডাক দেয়।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমবিএ প্রোগ্রামের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার প্রায় চার দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আহত দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করলেও প্রশাসন তাদের সাথে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।
তারা জানান, চলমান সংকট নিরসনের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যতদিন নিশ্চিত করা না হবে ততদিন পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং সিলেটের সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গকে যুক্ত করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর মনির উদ্দিনের সাথে দেখা করতে যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় ২০-২৫ জনের বহিরাগত একটি দল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। এ সময় তাদের হামলায় ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসির পদ খালি রয়েছে। প্রায় সবকটি প্রশাসনিক পদের কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গা নিয়েও ঝামেলা চলছিলো বেশ কিছুদিন ধরে। তবে কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ২ একর জায়গা লিখে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরে ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টিবোর্ড নিয়েও রয়েছে পাল্টাপাল্টি মামলা। যা আদালতে বিচারাধীন।
এদিকে এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র ভর্তিতে সতর্কতা জারি করলে ছাত্র ছাত্রীরা আন্দোলনে নামে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি মানার আশ্বাস দিলে তারা ক্লাসে ফিরে যায়। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামে।
Related News
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান না করা নিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির বিবৃতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরভবনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেRead More
গণতন্ত্র পেয়েছি, রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশেRead More



Comments are Closed