ধলাই নদীতে ফের চাঁদাবাজী, আটক ২
বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার মানুষের কাছে বিশেষ করে পাথর অধ্যুষিত ভোলাগঞ্জ, কালাইরাগ, দয়ারবাজার, ধলাই নদীসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি হলেই বেশ কয়েকজনের নাম চলে আসে। তাদের মধ্যে দুটি নাম বেশ আলোচিত। তারা হলো, তাজু মোল্লা ওরফে পরিবেশ মোল্লা ও ডাকাত বিল্লাল। এ দু’জন এখন সীমান্ত এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা কিংবা নির্যাতনের শিকার হতে হয়। থানা পুলিশের কতিপয় বিপদগামী কর্মকর্তাদের সাথে গভীর সক্ষতা ও উঠাবসা করায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের চলাফেরা ও বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারনে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে কোস্পানিগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসাবে আলতাফ হোসেন যোগদান করার পর থেকেই তাজু মোল্লা ও ডাকাত বিল্লালের নানা অপকর্মের মাত্রা বাড়তে থাকে। পুলিশের শেল্টারেই তারা প্রতিদিন কোয়ারী এলাকার বোমা মেশিন, পাথরের গর্তের মালিক ও ব্যবসায়িদের কাছ থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডাকাত বিল্লালকে ২০১৪ সালে অস্ত্রসহ কোম্পানিগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রায় বছর খানেক জেল খেটে সে বের হয়। তার বিরুদ্ধে কোম্পানিগঞ্জ সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। জেল থেকে বের হয়েই সে অপকর্মে জড়িয়ে পরে।
ডাকাত সর্দার বিল্লালের সহযোগী তাজু মোল্লা উরফে পরিবেশ মোল্লাকে গত ১২ জুলাই পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে। দুই দিনের মাথায় সে জেল থেকে বেরিয়ে্ আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিল্লাল ও তাজুর নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘতম ধলাই সেতুর তলদেশসহ গুচ্ছ গ্রাম, কলাবাড়ি সুজনের বাড়ির সামনে ও ধলাই নদীতে বালু পাথরের নৌকা ও লিস্টার মেশিন থেকে দৈনিক দুই থেকে তিনহাজার টাকা হারে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জায়গার মালিকানা দাবি করে ৫/৬শ বালির নৌকা থেকে ৫০০ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রেলওয়ের সীমানায় ও দয়ার বাজারস্হ লিলাই বাজারে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সেসকল বোমা মালিকদের কাছ থেকে ইতি মধ্যে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। তাজুর বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় হলেও সে দীর্ঘদিন ধরে কলাবাড়ি গ্রামের ডাকাত সর্দার বিল্লালের প্রশ্রয়ে তার বাড়িতে অবস্থান করে।
চাঁদাবাজির ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে ভুক্তভোগীরা অবহিত করলে প্রশাসন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
এদিকে চাঁদাবাজী দমন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাসুদ রানা। গত ১৭ জুলাই উপজেলার শীলাকুড়ি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার ঘটনায় ঐদিনই বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩টি নৌকাসহ ৭ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
এদিকে, ১৮ জুলাই বুধবারও বিভিন্ন নদী পথে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
চাঁদাবাজদের বিরু্দ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল লেইছ ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হাই।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed