Main Menu

দোয়ারায় বন্যায় পানিবন্দী ৫০ গ্রামের মানুষ

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর পানি এখন বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামের মানুষজন।

এদিকে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চলাচলের কয়েকটি রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ছাতক-দোয়ারার একমাত্র রাস্তার তিনটি স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাস্তাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াতে উপজেলা সদরের সাথে নরসিপুর, বাংলাবাজার, বোগলাবাজার, লক্ষিপুর ও সুরমা সহ ৫টি ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাছাড়া পানিবন্দি রয়েছে সদর ইউনিয়নের রাখালকান্দি, রায়নগর, বাগরা, সুন্দরপই, বড়বন্দ, গুচ্চগ্রাম, তেগাংঙ্গা, মাইজখলা, আংশিক নৈনগাঁও গ্রাম। সুরমা ইউনিয়নের শরিপপুর, ভোজনা, বৈটাখাই, নুরপুর, সুনাপুর, আলীপুর, নন্দিগ্রাম, ইসলামপুর, কাউয়াগড়, উমরপুর ভুজনা, কালিকাপুর ও কদমতলি এলাকা। এতে করে বড় ধরণের দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার জনসাধারণ।

সুরমা ইউনিয়নের রাবার ডাম্পের ভাঁঙ্গা বেড়ি বাঁধটি মেরামত না করার কারণে প্রতিবার পাহাড়ি ঢলের পানি মহব্বতপুর বাজারে ঢুকে বাজারসহ বাজারের সকল দোকানপাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। রাবার ডাম্পের বেড়ি বাঁধটি খোলা থাকার ফলে বাঁধের আশপাশের গ্রামগুলো সবসময় পানি বন্দি অবস্থায় থাকে।

অপরদিকে দিনের পুরোটা সময় ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার ফলে উপজেলার মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও ব্যাঘাত ঘটছে। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। উপজেলার সকল কৃষি ক্ষেতের সদ্য রোপনকৃত রোপা আমন ধানের বীজতলা ও আউষ ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে সুরমা নদীর ভাঙ্গন ও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এভাবে অবিরাম বৃষ্টি চলতে থাকলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বড় ধরণের বন্যার আশংকা করছেন অনেকেই।

অপরদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়ীক পরীক্ষা চলছে। অনেক বিদ্যালয়ে পানি ওঠাতে ব্যাঘাত ঘটছে পরীক্ষায়। তবে বৃহস্পতিবারের (০৫ জুলাই) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। যদি পানি বৃদ্ধি পায় তাহলে চলতি পরীক্ষা পরবর্তি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন- দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক।

সদর ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক মো. লাল মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকেই একটানা বৃষ্টি হচ্ছে, আমাদের বাড়িঘর এমনিতেই পানিবন্দি রয়েছে। যেভাবে পানি বাড়ছে রাতেও যদি একইভাবে বৃষ্টি হতে থাকে তাহলে আমাদের ঘর বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক বলেন, ‘অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। উপজেলার সকল রোপা আমন ধানের বীজতলা আউষধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পরবর্তি ব্যবস্থা নিতে পানিবন্দি জনগণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে যোগাযোগ করা হবে।’

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, আমন ক্ষেতের বীজতলা ও আউষধান ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে অর্ধ-শতাধিক গ্রামের মানুষজন পানিবন্দি রয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মাথায় রেখে বুধবার উপজেলা পর্যায়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন- যে সব এলাকার ঘর বাড়িতে পানি উঠেছে সেই সব মানুষদের আশ্রয়ের জন্য পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বন্যার জন্য দ্বিতীয় সাময়ীক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed