Main Menu

কুশিয়ারার তীরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

Manual2 Ad Code

অজামিল চন্দ্র নাথ, গোলাপগঞ্জ থেকে : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী অঞ্চলে ড্রেজার আতঙ্কে লোকজন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। দিনরাত পাহারা বসিয়ে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন তারা। বিক্ষুদ্ধ জনতা উপজেলা প্রসাশন ও থানা প্রশাসনের আশ্বাসে আইন হাতে তুলে নিতে চাইছে না বলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান। যথাসমেয় ড্রেজার মেশিন ওই এলাকা থেকে না সরালে এলাকার জনগণ যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে স্থানীয় এলাকার সমাজসেবী নুরুল আম্বিয়া আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

Manual5 Ad Code

শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানান উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত এক জনপদের নাম শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে প্রতিটি বর্ষা মৌসুমে ভাংগনের কবলে পড়ে এলাকার বাড়িঘর, দোকানপাট, গোরস্থান, মসজিদ মাদরাসা, মকতব, স্কুল কলেজ কোন না কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নদীগর্ভে ইতোমধ্যে অনেক স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন একদিকে হাকালুকি হাওরের কবলে পড়ে ওই জনপদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অন্যদিকে কুশিয়ারার তীরবর্তী এলাকা সারা বছর কম বেশ নদী ভাঙ্গন লেগে থাকে। সরকার নদীভাঙ্গন রোধ কল্পে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু নদী তীরবর্তী ওই অঞ্চল এত গভীর যে ব্লক ফেলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে ওই এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে রিড ড্রেজিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই উদ্যোগ জনগণ কোন দিন সফল হতে দিবে না বলে তিনি জানান।

শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ মুমিত হীরা বলেন যেখানে বালু উত্তোলন করার জন্য ড্রেজার স্থাপন করা হয়েছে উভয় দিকে বাজার রয়েছে। পশ্চিমপারে গোয়াসপুর বাজার এবং পূর্ব পারে কাদিপুর বাজার রয়েছে। তিনি বলেন দুই পারে শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন, বাদেপাশা ইউনিয়ন, বুধবারী বাজার ইউনিয়ন ও ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পঁচিশ ত্রিশটি গ্রাম কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে। তিনি বলেন কুশিয়ারা নদীতে যে ড্রেজার আনা হয়েছে তা একদিন চালু করে রাখলে শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কাদিপুর, পানিআগা, পনাইরচক, ফেনেরচক, মেহেরপুর, হাজিরকোনা, ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর, গোটারগাঁও, গোয়াসপুরসহ একাধিক এলাকা মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। দ্রুত ড্রেজার মেশিন কুশিয়ারা নদী থেকে সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

Manual5 Ad Code

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান বালু উত্তোলন করার জন্য রিড ড্রেজিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এসেছে মর্মে একটি কাগজ দেখিয়েছে। কিন্তু জনগণের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা যাবে না বলে ওই প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন যে ড্রেজারটি এখানে আনা হয়েছে ওই নদীতে ব্যবহার যোগ্য নয় বলেও জানান। এগুলো পদ্মা, মেঘনা, যমুনা নদী শাষনের কাজে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জাানান।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্য একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে যা করা প্রয়োজন তার জন্য পুলিশ প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে। বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর পর কোন বাড়াবাড়ি করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code