Main Menu

ছয় জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারা দেশে ৬ জেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৯ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ মে) রাতের বিভিন্ন সময়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে এসব বন্দুকযুদ্ধ হয়।

এর মধ্যে ফেনীতে ২ জন, কুমিল্লায় ২ জন, মাগুরায় ২ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন এবং সাতক্ষীরায় ১ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এদের সবাই মাদক ব্যবসায়ী।

নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম (৩২) নামে এক ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার দাবি করেছেন, ‘রাতে নিমাইকাশারি এলাকায় পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি করে পুলিশ। প্রায় আধঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধের পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে ছিলেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আজ সেলিম ওরফে ফেন্সি সেলিমের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।’

ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান, পাঁচ হাজার ইয়াবা, পাঁচ বোতল ফেনসিডিল ও একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, সানারপাড় এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে সেলিম ১৫ মামলার আসামি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ আমির খাঁ (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ স্টিল সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আমির উপজেলার চানপুর গ্রামের মৃত সুরুজ খাঁর ছেলে।

পুলিশের দাবি, নিহত আমির জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৯টি মাদক ও ১টি হত্যাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে আখাউড়া থানায়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ‘গতকাল রাতে বনগজ স্টিল সেতু এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমির ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এ সময় সহযোগীদের গুলিতে মারা যান আমির।’

পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, একটি কার্তুজ, একটি রামদা, দুটি বড় ছোরা, ১০ কেজি গাঁজা ও আট বোতল স্কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

মাগুরা:
মাগুরার সদর উপজেলায় ‘মাদক ব্যবসায়ীদের’ দুই পক্ষের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ সময় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন মাগুরা পৌর এলাকার নিজনান্দুয়ালী গ্রামের আইয়ুব হোসেন (৫০) এবং ভায়না টিটিসিপাড়ার মিজানুর রহমান কালু (৪৩)।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বলেন, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে মাগুরা শহরতলীর পারনান্দুয়ালী হাউজিং প্রজেক্ট এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

‘আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বিভিন্ন থানায় আইয়ুবের বিরুদ্ধে ১৮টি এবং কালুর বিরুদ্ধে ২১টি মাদকের মামলা আছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এএসপি।

ফেনী:
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মজনু মিয়া মনির (৩২) ও শহমিরান শামির (৩০)নামে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

গতকার বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আনন্দপুর ইউনিয়নের জামমুড়া এলাকায় এসব ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের দাবি।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কমকতা (ওসি) জানান, ‘মাদক পাচার হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে মনির ও শামির গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে ছিলেন।

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭০০ ইয়াবা, ৭০০ বোতল ফেনসিডিল, একটি এলজি, তিনটি কার্তুজ উদ্ধার করে।

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে। মনির ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের এবং শামির আনন্দপুর ইউনিয়নের মাইজগ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগণ্ডা এলাকায় বন্ধুকযুদ্ধে বাবুল মিয়া ওরফে লম্বা বাবুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি এলজি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত বাবুল মিয়া উপজেলার পৌর এলাকার বৈদ্দের খিল গ্রামের প্রয়াত হাফেজ আহমেদের ছেলে। রাত আড়াইটার দিকে তার মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে আসা হয়।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল জানান, মাদকের চালান যাচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে ঘটনাস্থলে বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদকের মামলাসহ ৬টি মামলা ছিল।

এদিকে একই রাতে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারার গোয়াল মথন এলাকায় রাজীব নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নিহত রাজীব সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকার চাঙ্গিনি গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। রাত ৩টার দিকে তার মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ থানার এস আই সাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত রাজীবের কাছ থেকে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল, ৪০ কেজি গাজা এবং একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ৬-৭টি মাদকের মামলা ছিল। এ নিয়ে গত তিন দিনে কুমিল্লায় মোট পাঁচজন মাদক ব্যাবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন।

সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মাদক ব্যবসায়ীর (৪০) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া এলাকা থেকে ওই লাশটি উদ্ধার করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, সকালে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে চৌবাড়িয়া এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ একটি লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। লাশের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় এক বস্তা ফেনসিডিল, একটি রিভলবার ও চার রাউন্ড বন্দুকের গুলির খোলা উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা চৌবাড়িয়া-খানজিয়া সীমান্ত এলাকাটি চোরাচালান রুট হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপ নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে তাকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে আরো অধিকতর তদন্ত করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

Share





Related News

Comments are Closed