Main Menu

স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যা মামলা সাজানোর অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামীদের রক্ষার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর বাজার মসজিদের মোতাওয়াল্লী, মিত্রিমহল গ্রামের মৃত সাজিদ আলীর পুত্র মো. আব্দুস সুবহান। জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামীদের প্ররোচনায় এই জঘন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন খুনীরা। তারা পলাতক থেকে নানা হুমকী-ধমকী ও মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করে ভীতি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৩ এপ্রিল) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিত্রিমহল গ্রামের আব্দুস সুবহান বলেন, তিনি সালুটিকর বাজার মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন থেকে। এই মসজিদের জমি-জমা নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে গত ২৪ মার্চ সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন প্রাণ হারায়। আর এ ঘটনার মূল হোতা একই উপজেলার নন্দীরগাও ইউনিয়নের বহরগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান তেরা মিয়ার পুত্র জামাল আহমদ ও তার অনুগত লোকজন। নিহতরা হলেন, মিত্রিমহল গ্রামের আজিজুল ইসলামের পুত্র রুমেল আহমদ (২৪) ও মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র আলী আহমদ ওরফে মনাই। এ ছাড়া আহত হন আরও অর্ধশতাধিক।
এ ব্যাপারে ২৫ মার্চ আব্দুস সুবহান গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৬/২৫/০৩/ ২০১৮। মামলায় জামালকে প্রধান আসামী হিসাবে উল্লেখ করে ৯৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দু’শতাধিক জনকে আসামী করা হয়। ইতোমধ্যে এ মামলায় প্রায় ৪০ জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু প্রধান আসামী জামাল ও অন্য কয়েকজন গ্রেফতার না হওয়ায় তারা নানা হুমকী ধমকী দিয়ে ভয় ভীতি ছড়াচ্ছে এবং নিজেরা হত্যা মামলা থেকে রক্ষা পেতে হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
আব্দুস সুবহান বলেন, তার দায়েরকৃত মামলার ১৪নং আসামী জামালের চাচাত ভাই, বহর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার পুত্র আমীর আলী (৪৫) পলাতক অবস্থায় গত ১১ এপ্রিল একই উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের পাতলীকোনা গ্রামে তার মেয়ের বাড়িতে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্বাভাবিক এই মৃত্যুকে হত্যামামলা সাজাতে তারা গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে পাশ কাটিয়ে লাশ সিলেট শহরে নিয়ে এসে কোতোয়ালী থানা পুলিশকে দিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পোস্টমর্টেম করায়।
এরপর থানায় মামলা না করে গত ১৫ এপ্রিল সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলগ্রহনকারী আদালত-৪ এ আমীর আলীর স্ত্রী জয়নব বিবি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে (মামলা নং সিআর-৭২, ১৫ এপ্রিল ২০১৮)। মামলায় আব্দুস সুবহানসহ মোট ১৫ জনকে আসামী করা হয়। আব্দুস সুবহান পক্ষের মারধোরেই আমীর আলী মৃত্যুবরণ করেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন- ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদীত। আমরা আমীর আলীকে মারধোর করার কোন সুযোগই ছিল না। তাছাড়া মারধোরের কারণে সে আহত হলে কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতো। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, পলাতক অবস্থায় নিজের মেয়ের বাড়িতে ঘটনার প্রায় ১৯/২০ দিন পর তার মৃত্যু হয়েছে। আমীর আলীর স্ত্রী জামালসহ হত্যা মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এই হীনচক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে মিথ্যা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জোড়া হত্যামামলার আসামীদের রক্ষার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এই জঘন্য চক্রান্তেই প্রমাণ হয় স্বার্থসিদ্ধীর জন্য তারা কতটা নিচে নামতে পারেন। শুধু তাই নয়, জামাল ও অন্যান্যদের প্ররোচনায় জয়নব বিবি কয়েকদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট অনেক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য আমাকে দায়ী করে যেসব বক্তব্য রেখেছেন, তার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে আলাপ করলেই তা পরিস্কার বুঝা যাবে।‘
এসময় আব্দুস সুবহান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমি সরকারের প্রশাসন-বিচার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিনীত আহবান জানাই, এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও সংবাদ সম্মেলনে জয়নব বিবির দেওয়া বক্তব্যে কেউ যেনো বিভ্রান্ত না হন। ঘটনাটি দ্রুত সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য আমি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উদাত্ত আহবান জানাই। ‘
তিনি ঘটনার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত জয়নব বিবির দায়েরকৃত মামলায় যাতে তাদের কোন ধরণের হয়রানী না করা হয়, সেজন্য আমরা পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দেশের সর্বস্তরের বিবেকবান মানুষের প্রতিও আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার ছোটভাই লুৎফুর রহমান, পুত্র আশরাফুল আমীন ও আত্মীয় মাসুদ আহমদ।

Share





Related News

Comments are Closed