Main Menu

সিলেটে তালাবদ্ধ বাসা থেকে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকার খারপাড়ার একটি বাসা থেকে মা-ছেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে মিতালি ১৫/এ নম্বরের তিনতলা বাড়ির নিচ তলা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হচ্ছে- রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে এসএসসি ফলপ্রার্থী রবিউল ইসলাম রোকন (১৫)।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান হাসু জানান, তালাবদ্ধ ওই বাসা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে খুলে সাড়ে ৩ বছরের শিশু রাইসাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাড়ির ভেতরে রোকেয়া বেগমের সাড়ে ৩  বছরের মেয়ে রাইসার কান্না ও পঁচা গন্ধ পেয়ে আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

নিহত রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূপম।

জানা গেছে, নিহত রোকেয়ার সিলেট শহরে একটি বিউটি পার্লার আছে। তার স্বামী হেলাল আহমদ দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজড। থাকেন নগরীর বারুতখানা এলাকার ভাইয়ের বাসায়। আর ছেলে রূপন এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে কোতয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে।

কোতওয়ালী থানার ওসি গৌসুল হোসেন লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কয়েকদিন আগে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। সিআইডিকেও আসতে বলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, রোকেয়া বেগম মিরাবাজারের মিতালী আবাসিক এলাকার ১৫/জে নম্বর বাসাতে গত একবছর ধরে ভাড়া থাকেন। স্বামীর সাথে মিল ছিলনা বলে সন্তানদের নিয়ে এই ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন তিনি।

তিনি আরো জানান, মাসখানেক আগে থেকেই রোকেয়া তাকে জানিয়েছিলেন যে, এই বাসায় তার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে। এই বাসা বদলানো লাগবে। রোকেয়ার স্বামী জগন্নাথপুর উপজেলার হেলাল আহমদের সাথে তার বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তিনি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। আর গত রমজান মাসে হেলাল আহমদ স্ট্রোক করার পর তার পরিবারের সাথে বারুতখানার একটি বাসায় থাকেন।

উদ্ধার হওয়া শিশু রাইসা

গত শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের সাথে রোকেয়া বেগমের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। রবিবার সকালে তাদের খোঁজ নিতে মিরাবাজারস্থ বাসায় আসেন জাকির হোসেন। বাসায় এসে ভেতর থেকে তিনি তাদের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা না খোলায় তিনি বাড়ির মালিককে খবর দেন। বাড়ির মালিক ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘরে প্রবেশ করে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এসময় ঘরের মধ্যে ক্রন্দনরত অবস্থায় সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়েকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে, কাজের মেয়ে তানিয়াকে বাসায় পাওয়া যায়নি।

নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বলেন, রোকেয়ার সঙ্গে বাসায় তানিয়া (১৬) নামের এক গৃহকর্মী থাকত। ঘটনার পর তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি।

বাসার মালিক সালমান হোসেন জানান, পরিবারটি তার বাসায় গত এক বছর ধরে বসবাস করছে। রবিবার সকালে নিহত মহিলার ভাই জাকির হোসেন বোনের খোঁজ নিতে এসে ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বিষয়টি তাকে জানান। এরপর তিনি বিষয়টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান হাসুকে অবহিত করেন। সকাল ১১টার দিকে হাসু এ খবর জানান পুলিশকে। এরপর পুলিশ ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে বাসা খুলে ভেতরে মা-ছেলের লাশ দেখতে পায়। এ সময় শিশু রাইসাকে উদ্ধার করা হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন এসে পৌঁছেছে। এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন।

এদিকে পুলিশ মৃত রোকেয়ার বাসা থেকে তার ব্যবহৃত কম্পিউটারটি জব্দ করে ও জীবিত উদ্ধার করা রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

Share





Related News

Comments are Closed