Main Menu

এক টাকায় সিঙ্গাড়া

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: এই আকালের বাজারে এক টাকায় কি পাওয়া যায়? স্রেফ একটা লজেন্স। ভালো লজেন্স কিনতে গেলে খসাতে হবে আরও বেশি। কিন্তু মাত্র এক টাকায় সিঙ্গাড়া পেলে নিশ্চয়ই হামলে পড়বেন! গপাগপ-টপাটপ উদরপূর্তীও করবেন গোটা কয়েক। তবে এ জন্য আপনাকে যেতে হবে দিনাজপুর শহরের গার্লস স্কুলের পেছনে। পঞ্চাশোর্ধ্ব শচীন কুমার ঘোষ ৪০ বছর ধরে সেখানে সিঙ্গাড়া বিক্রি করে আসছেন। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এক টাকায়ই বিক্রি হচ্ছে তার সিঙ্গাড়া।

এক টাকার সিঙ্গাড়া হলে কি হবে; সাইজ মন্দ নয়। আর স্বাদ। অসাধারণ! যারা শচীনের সিঙ্গাড়া খেয়েছেন তারা সেখানে বারবার যান। বিশেষ করে দিনাজপুর শহরের বাসিন্দারা। তরুণ-তরুণী, ছেলে-বুড়ো-কিশোর সবাই এই সিঙ্গাড়ার কারিগরকে শচীন দা বলেই ডাকেন। তার রান্নার হাত যশ ও সিঙ্গাড়ার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে শহর ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

শচীন জানান, সিঙ্গাড়ার পাশাপাশি তিনি নিমকিও বানান। সেটিও চলে খুব। দাম একই। এক টাকা মাত্র। প্রতিদিন তার দোকানে সাত হাজার সিঙ্গাড়া ও তিন হাজার খানেক নিমকি বিক্রি হয়। এর সবগুলোই দুপুরের আগেই বিক্রি হয়ে যায়।শচীনের ছোট্ট দোকানে বসে অনেকেই সিঙ্গাড়া দিয়ে নাস্তা সারেন। কেউবা ঠোঙ্গায় ভরে বাসায় নিয়ে যান। শচীনের সিঙ্গাড়ার দোকান খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত।

শচীন বলেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে এক টাকায় সিঙ্গাড়া বিক্রি করছি। তখন সিঙ্গাড়ার আকার বড় ছিল। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কিন্তু সিঙ্গাড়ার দাম বাড়েনি। তাই আকারে ছোট হয়েছে।’ শচীন আরো বলেন, ‘আমি যত দিন পর্যন্ত বাঁচবো ততদিন এক টাকায়ই সিঙ্গাড়া বিক্রি করবো।’

শচীন জানান, সিঙ্গাড়া ও নিমকি বানানোর উপকরণ সংগ্রহ ও তৈরিতে তার পরিবারের সদস্যরা সাহায্য করেন। তিনি এগুলো দোকানে বসে ভেজে বিক্রি করেন। শচীনের সিঙ্গাড়া, নিমকি দিনাজপুরে শহরে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ওখানকার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শচীনের দোকান থেকে সিঙ্গাড়া নিমকি এনে নাস্তা করেন।

এক সময় শচীন বিভিন্ন জায়গায় সিঙ্গাড়া, সমুচা পার্সেল করতেন। কিন্তু এখন বয়সের কারণে দৌড়ঝাঁপ করতে পারেন না। দোকানে বসেই বিক্রি-বাট্টা সারেন। সিঙ্গাড়া, সমুচা বিক্রি করে ভালোই আয় হয় শচীনের। পরিবার নিয়ে তার সংসারও চলছে দিব্যি।

Share





Related News

Comments are Closed