Main Menu

যে কোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি : খালেদা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি কোন অন্যায় করিনি। নূন্যতম বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে আমি বেকসুর পাবো। অন্যরকম কোনো রায় হলে তা কলঙ্কের ইুতিহাস হয়ে থাকবে। আমাকে জেল বা সাজার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যে কোন পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুত আছি, মাথা নত করবো না।’

নির্বাচন এবং জনগণ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করতেই আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বেগম জিয়া আরও বলেছেন, ‘জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে পিছু হটবো না। জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেই একদলীয় শাসন কায়েম ও খালি মাঠে গোল দেয়ার খায়েশ পূরণ হবে বলে আমি মনে করি না।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার আগের দিন বুধবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে দুঃশাসন চলছে। দেশে আজ জনগণের ভোটের সংসদ নেই। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। উন্নয়নর প্রকল্পে ৫/৭ গুণ বাড়িয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। দুঃশাসন থেকে এদেশের মানুষ মুক্তি চায়। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, জমির উদ্দিন সরকার, লে. জে (অব:) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড.আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি ব্রেকিংনিউজকে নিশ্চিত করেছিলেন বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার।

উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ স্ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর পর থেকেই রায় ঘিরে দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দল বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বিপরীতমুখী অবস্থান ও বক্তব্য শুরু হয়। এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ৮ ফেব্রুয়ারি যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিপরীতে রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে জনসমর্থন বিচারে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও একই দিন রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অরফানেজের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এ মামলায় গত ১৯ ডিসেম্বর যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ২০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়ে ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩, ৪, ১০, ১১ ও ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা।

এর পরে এ মামলার অন্যতম আসামি শরফুদ্দিননের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয় গত ১৬ জানুয়ারি। ধারাবাহিকভাবে ১৭, ১৮, ২২, ২৩ ও ২৪ যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। মামলায় বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তিনজন পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থানের সুযোগ নেই।

খালেদা জিয়া ছাড়াও আলোচিত এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

প্রায় চার বছর আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ চলার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে আদালত।

Share





Related News

Comments are Closed