Main Menu

ছাতকে প্রবাসীর সম্পত্তি আ’লীগ নেতার দখলে, প্রতিকার দাবি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার কব্জায় লন্ডন প্রবাসীর বিশাল ভূসম্পত্তি। বসতবাড়ির গাছপালা কর্তন, সীমানা প্রাচির ও গেট ভেঙ্গে বসতবাড়ির ৪ একর জায়গাসহ ফসলি ১৫ একর জায়গা-জমি দখল করে নিয়েছেন ওই নেতা ও তার লোকজন। ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ও দলের প্রভাব বিস্তার করে তিনি বিশাল সম্পত্তি দখল করে নেন। সম্পত্তি বেহাত হওয়ায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রবাসী ইসমাইল আলী ও তার স্বজনরা। তিনি সম্পত্তি উদ্ধার ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সোমবার সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার খুরমা মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী ইসমাইল আলী। তিনি জানিয়েছেন, সম্পত্তি উদ্ধার না করলে হয়তো তিনি আর কোনোদিন দেশে ফিরবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদানসহ উন্নয়নে সাধ্যমতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। এমনিক মহানমুক্তিযুদ্ধে প্রবাসেও তিনি সযোগিতার হাত বাড়িয়েছিলেন। আজ শেষ বেলায় এসে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক ও তার লোকজনের কাছে তিনি অসহায়। প্রবাসে থাকায় কারণে দেশে অবস্থানরত তার ভাতিজারা জায়গা দেখবাল ও ভোগ দখল করে আসছে। ২০১৬ সালে স্বজনদের অসহায়ত্ব ও সরলতার সুযোগে জায়গার উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে খালিকের। ভাতিজা আপ্তার মিয়ার কাছে খালিক ১০ কেদার জায়গা না হয় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। জায়গা ও টাকা না দেওয়ায় ওই বছরের ১৮ মে বাড়ির সীমানা প্রাচির ও গেট ভেঙ্গে ফেলে। ২২ মে থেকে বসতবাড়ির গাছপালা কেটে নিতে শুরু করে খালিক ও তার লোকজন। বাঁধা দিতে গিয়ে হামলায় আহত হয় আমার ভাতিজা আপ্তাব মিয়া।
বক্তব্যে বলা হয়, খুরমা গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে আব্দুল খালিক ১৯৯২ সালে মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ভর্তি হয়। শুরুতে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে এবং পরবর্তীতে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। ২০০০ সালের ১৬ আগষ্ট খুরমা বাজারে এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের সভায় গুলিবর্ষন ও হামলার ঘটনায় খালিকও জড়িত ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে রাজনীতির বোল পাল্টায় খালিক। সে আওয়ামী লীগে যোগদান করে এবং ২০১৬ সালে খুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। এর পর থেকে সে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। যাদের কাজই এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও ন্যায়কে অন্যায় বানানো। ফেসবুকে খালিক গ্রæপ নামেও একটি গ্রুপ রয়েছে। এ গ্রæপে রয়েছে তার ভাই ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস শহিদ, ভাতিজা উপজেলা যুবলীগ সদস্য মারুফ আহমদ, মহব্বতপুরের আফরোজ ও তার ভাই উকিল আলী, একই গ্রামের মতিন, খুরমার সালামত আলী, আলফত আলী, হান্নান, আরিছ আলী, আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন।
প্রবাসী ইসমাইল আলী জানান, ছাতক উপজেলার মহব্বতপুর মৌজার জে.এল নং- ৩৯২, নামজারি খতিয়ান নং-২৩, দাগ নং ২, ৩, ৪, ১০, ১১, ১৩, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৩৮, ১৮, ৪৪, এর ১৪ একর ৮৯ শতক বাড়ি ও ফসলি জমি রয়েছে। তিনি ক্রয়সুত্রে মালিক হয়ে ওই জায়গার দলিল, মাঠপর্চা, নামজারী ও ডিসিআরসহ কাগজপত্র এবং সরকারি খাজনা পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ-দখল করে আসছেন। এই জায়গার এসএ রেকর্ডিয় মালিক ছিলেন শিবেন্দু নন্দি চৌধুরী। ১৯৮২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একই বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাগের ওই জায়গা তিনি, তার বড় ভাই ইউসুফ আলম, তার স্ত্রী রওশন আরা খাতুন, ভাতিজা কবির আলম ও বদরুল আলম ক্রয় করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসমাইল আলী জানান, খালিক গংরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছে। খালিক সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। ২০১৬ সালের ২৩ মে ভাই এর হাতে ভাই রাজন খুন হলে খালিক ভাতিজা আপ্তাব মিয়া, বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুর রাজ্জাক ও চাচাতো ভাই তাজুল্লাহকে আসামী দিয়ে হয়রানী করে। ওই সময় রাজ্জাককে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেয় খালিক। বিনা অপরাধে ৮ মাস সে জেলখাটে। কোন কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে অর্থ ও পেশী শক্তির জোরে খালিক ও তার বাহিনী বাড়ি, ভূসম্পত্তি, পুকুরসহ ক্ষেত-খামারের জায়গা দখল করে নেওয়ায় তিনি এমপি মুহিবুর রহমান মানিক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যামন্য মুরব্বিদের অবগত করেও কোনো ফল পাননি।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, গাছ কেটে বাড়ি দখলের ঘটনায় ভাতিজা আপ্তাব মিয়া থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ জিডি গ্রহন করে। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা করে আপ্তাব। সিআর মামলা নং ৪১/১৭। এ মামলা থেকে পুলিশ তাকে অব্যহতি দিয়েছিল। কিন্তু আদালতে নারাজি দিলে আদালত সরাসরি তাকে আসামীভূক্ত করেন। আর এ মামলায় প্রায় দেড়মাস জেল খাটে খালিক। এছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে ২২-৮-১৭ ইং পুলিশ সুপার ও ৮-৮-১৭ ইংরেজি সিলেটের ডিআইজি বরাবরে আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের সহকারি পুলিশ সুপার দুলন মিয়া তদন্ত করে ঘটনার সত্যতাও পান। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো গত ২ জানুয়ারি জেল থেকে বের হয়ে খালিক আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং ৩-৪ জানুয়ারির মধ্যে ১৫ একর জায়গা ছাড়াও অন্যান্য বোরো জমি দখল করে ফসল লাগাচ্ছে। এমনকি আবার পুকুরের মাছ ও গাছপালা কেটে নেয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ শুধু তদন্ত করে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল আলী মাদার অব হিউমেনেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ভাতিজা আপ্তাব মিয়া, ভাগনা সুফি মিয়া, জুয়েল খান প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed