সিসিকের গাড়ি গায়েবের ঘটনায় মেয়রকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনটি অকেজো গাড়ি গায়েব হওয়ার ঘটনায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে এক সাপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতে দাখিলকৃত পুলিশের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন সিলেট মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরো।
আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বেনুচন্দ্র গত নভেম্বর মাসে প্রতিবেদন দাখিলের পরপরই আদালতে সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন জানান করপোরেশনের পরিবহন শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) জাবেরুল ইসলাম।
আদালত সিটি করপোরেশনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আগামী ২০ ডিসেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) নেহার রঞ্জন জানান, আদালত সিটি করপোরেশনের মেয়রকে তাদের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। জিডি প্রত্যাহারের আবেদনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে, গত ১১ নভেম্বর নগর ভবনে এক জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়ি উধাও হওয়ার যে খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হচ্ছে তা সঠিক নয়। এই সংবাদটি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে দির্ঘদিন থেকে তিনটি গাড়ির অংশবিশেষ পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সিসিকের নুতন গাড়ির জন্য জায়গা খালি করে দিতে আবর্জনার সাথে গাড়ির অংশ বিশেষ ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এ সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে তিনি গাড়ির অংশ বিশেষ কিভাবে ডাম্পিং স্টেশনে গেল সে বিষয়টি তদন্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের থানায় সাধারণ ডায়েরী করারও নির্দেশ দেন। গাড়িগুলোর কিছু দৃশ্যমান অংশবিশেষ ছাড়া আর কোন অস্থিত্ব নেই উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এ গাড়িগুলো দীর্ঘ দিন থেকে বিকল ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আবর্জনাস্তুপকে বড় করছিল। পরিবহন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গাড়িগুলোর অংশবিশেষ নির্ধারিত স্থানে তাদের দায়িত্বে না রাখায় পরিচ্ছন্নতা শাখার লোকজন আবর্জনা মনে করে ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে আসেন। যা পরবর্তিতে ডাম্পিং স্টেশনে রক্ষিত রাখা হয়। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান মেয়র আরিফ।
প্রসঙ্গত, সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয় (পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগার) এর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রাখা অব্যবহৃত একটি পিকআপ, একটি মিনি ট্রাক এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ২৬ সেপ্টেম্বর গায়েব হয়ে যায়। এ ঘটনার ২৭ দিন পর গত ২৪ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়রি (নং-১৯৪৯) করেন করপোরেশনের পরিবহন শাখার উপ সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) জাবেরুল ইসলাম। পরবর্তীতে মেয়রের নির্দেশে গত ২ নভেম্বর এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ বদরুল হককে আহবায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রুহুল আলমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) আলী আকবর। কমিটিকে ৭দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়ছে।
Related News
ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উসকানির অভিযোগে সাবেক উপাচার্যRead More
মৌলভীবাজারে হত্যা মামলায় ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মুনিয়ারপাড় গ্রামের মো. আজিজুল মিয়া হত্যা মামলারRead More



Comments are Closed