অস্ট্রেলিয়ার পথে প্রধান বিচারপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়ার পথে রওনা হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটে চড়েন তিনি।
এর আগে, রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে সময় হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে সস্ত্রীক বের হন প্রধান বিচারপতি। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ভিআইপি গেট দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তারা। তবে প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা তার সঙ্গে ফ্লাইটে রওনা হননি বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটটিতে রয়েছে এয়ারবাস এ৩৩৩ মডেলের উড়োজাহাজ। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৬টা ৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাংগি বিমানবন্দরে অবতরণ করবে ফ্লাইটটি। সেখানে থেকে অন্য একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধান বিচারপতি।
মপফষপল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাস ভবন ত্যাগের আগে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন। রাত ৯ টা ৫৭ মিনিটে বাস ভবনের সামনে আসেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় তাকে কিছু বলার অনুরোধ জানালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। বিচার বিভাগের স্বার্থে আমি আবার ফিরে আসবো।’
সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলেও দাবি করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন,‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটি রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষ করে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন,‘সেই সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে। কারণ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণতম বিচারপতির উদ্বৃতি দিয়ে মাননীয় আইনমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অচিরেই সুপ্রিম কোর্টে প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবেন। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো রেওয়াজ নেই। তিনি শুধু রুটিনমাফিক দৈনন্দিন কাজ করবেন। এটিই হয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচারবিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর রাত ১০ টা ২ মিনিটে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন প্রধান বিচারপতি।ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ ৪৪৭ ফ্লাইটের টিকিট কেটেছেন।
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২ অক্টোবর এক মাসের ছুটিতে যান এস কে সিনহা। এর পর রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা জানায় আইন মন্ত্রণালয়।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বয়স বিচারে অবসরে যাওয়ার দিন ধার্য রয়েছে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগেই দীর্ঘ ছুটিতে গেলেন তিনি। এর আগে গত ৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও জাপান সফরে যাওয়ার জন্য ১৬ দিনের ছুটি নেন প্রধান বিচারপতি।
বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি গত ১০ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন প্রধান বিচারপতি। ওই চিঠিতে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান বলে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
Related News
সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের তথ্য দুদকে পাঠাল এফবিআই
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানেরRead More
ইতালিতে বছরে ১০ হাজার জনের কাজের সুযোগ: যাওয়া যাবে পরিবারসহ
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রতিবছর ইতালিতে বৈধভাবে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কাজের সুযোগRead More



Comments are Closed