Main Menu

কমলগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঘরের চালার সাথে শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে এক নব গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। গত শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটার দিকে রহিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর গ্রামের সঞ্জয় দেবনাথ এর স্ত্রী সোনালী রানী নাথ (১৯) বাড়ির লোকজনের অজান্তে নিজের শয়ন কক্ষের চালার সাথে শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্বামী ক্ষেতে কৃষি কাজ করে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ দেখে দরজা ভেঙ্গে দেখেন চালার সাথে তার ঝুলন্ত লাশ। এসময় জীবিত ভেবে স্বামী ও স্বজনরা দ্রত লাশটি নামিয়ে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক ডাকলে তিনি এসে দেখে বলেন গৃহবধূ মারা গেছেন। ঘটনাটি কমলগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে সন্ধ্যার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শনিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
গৃহবধূর স্বামী স্বামী সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ছয় মাস আগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ঘোড়াচাও গ্রামের সেতন দেবনাথের একমাত্র মেয়ে সোনালী রানী নাথের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। তিনি (সঞ্জয়) আগে দুবাই ছিলেন। বিয়ের পর আর বিদেশ না গিয়ে বাড়িতে অবস্থান করেই কৃষি কাজ করছেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় কৃষি কাজ করে বাড়ি ফিরেন খাবারের জন্য। তার শয়ন কক্ষের দরজা বন্ধ ও স্ত্রী সোনালীকে না দেখে স্বজনদের ডেকে এনে দরজা ভেঙ্গে দেখেন স্ত্রীর দেহ ঘরের চালার সাথে ঝুলে আছে। বিষয়টি তিনি ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আজির উদ্দীনের মাধ্যমে কমলগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন।
রহিমপুর ইউপি সদস্য আজির উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশের ময়না তদন্ত শেষে শনিবার দুপুরেই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কি কারণে নব গৃহবধূ আত্নহত্যা করলেন তার কারণ এখনও জানা যায়নি বলে ইউপি সদস্য জানান। তবে নিহত গৃহবধুর কাকা সঞ্জিত দেবনাথ জানান, সোনালী রানী নাথের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ ঘরের মেঝেতে রাখা হয়েছে। তবে এখনই থানায় কোন অভিযোগ করছেন না। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে একমাত্র মেয়ের এই অকাল মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নিহতের পিতা, মাতাসহ পরিবার সদস্যরা।
কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ফরিদ উদ্দীন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে শনিবার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। এ জন্য থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যতিক্রমী কোন তথ্য পেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed