Main Menu

পাত্রখোলা চা বাগানে মামা-ভাগ্নি’র সংঘর্ষে আহত ৬

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগানে মামার কাছে ভাগ্নির গচ্ছিত স্বর্ণ ফেরৎ নেওয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাগ্নি ও মামার পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে উভয়পক্ষে দুই নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের পাঁচজন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় এ ঘটনাটি ঘটে।
পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিক তৈয়ব আলী বলেন, তার দুই মেয়ে আলেয়া আক্তার (২০) ও আকলিমাকে (১৮) পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে বিয়ে দিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে তার মেয়েরা বাবার বাড়ি পাত্রখোলা চা বাগানের বাজার লাইন শ্রমিক বস্তিতে বেড়াতে আসে। এ সুযোগে মেয়ে আলেয়া আক্তার সোমবার রাতে মামা একই চা বাগানের সর্দার হারুন মিয়ার (৪০) কাছে রক্ষিত তার ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ফেরৎ নিতে মামার বাড়ি যায়। তখন মামা হারুন মিয়া গচ্ছিত স্বর্ণ ফেরৎ না দিয়ে ভাগ্নির শ্বশুরের সাথে তার (মামার) লেনদেনের হিসাব শেষ করতে বলেন। এ নিয়ে উত্তেজনায় মামা ভাগ্নি আকলিমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় উভয় পরিবারের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার মামা হারুন মিয়া লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে (তৈয়ব আলীর) এসে হামলা চালিয়ে ভাঙ্গচুর করে। হামলায় আকলিমা আক্তার (১৮), তার মা আছমা বেগম (৫০) ও আকলিমার ভাই আইয়ূব মিয়া (২৬) আহত হয়ে এখন কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনাটি মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানুকে অবহিত করা হয় বলেও তৈয়ব আলী জানান। তিনি (তৈয়ব আলী) আরও জানান, হামলা ও ভাঙ্গচুরকালে তার শ্যালক হারুন মিয়ার লোকজন ঘরে সঞ্চিত ৬০ হাজার টাকাও লুটে নেয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তোফায়েল ইসলাম পারিবারিক মারামারি করে ৫জন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তবে অভিযোগ বিষয়ে হারুন মিয়া ভাগ্নির স্বর্ণ গচ্ছিত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই স্বর্ণ ফেরৎ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার রাতে ভাগ্নি ভাগ্নারা লোকজন নিয়ে এসে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। বুধবার সকালে আবার তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতর্কিতে মারধর শুরু করে। এতে আমি, আমার স্ত্রী শেলিনা বেগম (২৮) ও বোন মজিনা বেগম (৩৫) আহত হন। স্ত্রী শেলী বেগম ও ফুফাতো বোন মজিনা বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন বলে তিনি জানান।
মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু উভয়পক্ষে আহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি সামাজিক বৈঠকে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে জানান।

 

Share





Related News

Comments are Closed