আদালতের স্থিতাদেশ থাকার পরও নোটিশ দিচ্ছে সিসিক
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: আদালতে স্বত্ব মামলায় স্থিতাদেশ থাকার পরও প্রভাবিত হয়ে রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে নিজস্ব জায়গার উপর থাকা বসতঘর ও দোকানকোঠা অপসারণের জন্য বারবার নোটিশ দিচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। আর আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়ায় বিবাদীগণ কতিপয় প্রভাবশালীর যোগসাজসে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
সিসিকের ১৭নং ওয়ার্ডের মীরবক্সটুলার আজাদী ১১৩ নং বাড়ির বাসিন্দা মরহুম আব্দুল মতিনের কন্যা নাছিমা বেগম সোমবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাছিমা বেগম বলেন, বাপ-চাচা সাতভাই ছিলেন। বর্তমানে তারা কেউই বেঁেচ নেই। এর মাঝে দু’জন ছিলেন নিঃসন্তান। মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার ৪৯৫৬ ও ৪৯৫৭ নং দাগে মোট ৪৯ শতক ভূমি মৌরসি সূত্রে ওই এলাকায় আমরা স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছি। আমরা এক ভাই ও দুই বোন। বাপ-চাচার জীবদ্দসায় ভূ-সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা না হওয়ায় পরবর্তীতে এ নিয়ে চাচাতো ভাই আব্দুল আহাদ মান্না ও আব্দুল ওয়াব মিটু গংদের সাথে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
জটিলতা নিরসনের জন্য এলাকার মুরব্বিয়ান ও কাউন্সিলরকে নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের আয়োজন করি। সালিশে কোনো ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ভাইবোনসহ মা রোকেয়া খানম বাদী হয়ে মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত সিলেটে একটি স্বত্ব মোকদ্দমা দায়ের করি। যার নং ২৪১/২০১৬। আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়ায় বিবাদীগণ কতিপয় প্রভাবশালীর যোগসাজসে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি প্রদান করতে থাকে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। বর্তমানে একটি মহল আমাদের নিজস্ব জায়গার উপর থাকা দোকানকোঠাটি রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে জোর পূর্বক অপসারণের পাঁয়তারা করছে ।
নাছিমা বলেন, বিবাদী মান্না ও মিটু গংরা শুধু হুমকি-ধমকি দিয়েই থেমে থাকেনি তারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজেদের মৌরসি ভ‚মির উপর নির্মিত বসতঘর ও দোকানকোঠা অপসারণ করতে সিসিক গত বছরের ১৭ নভেম্বর আমার ভাই ওয়েছ আহমদ টিটু বরাবরে একটি নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অননুমোদিত ও বিধি বহির্ভূত অংশ গৃহ ও দোকানকোঠা অপসারনের জন্য বলা হয়।
এই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে টিটু লিখিত জবাব দেন ওই বছরের ২৪ নভেম্বর। লিখিত জবাবে টিটু বলেন, ১৯৫৬ সালেরও আগ থেকে এই ভূমিতে আমাদের বসতঘর ও দোকানকোঠা বিদ্যমান আছে। পরবর্তীতে এখানে আর নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়নি। পূর্ব পুরুষের আমল থেকেই এগুলো ভোগদখল করে আসছি। গৃহ ও দোকানকোঠায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কারো কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়া খাজনা পরিশোধ করে অদ্যবধি ভোগদখল করে আসছি। এছাড়া এই ভূমি নিয়ে আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে এবং এ ভূমিতে মাননীয় আদালতের স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নোটিশের কার্যকারিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয় সিটি করপোরেশনকে। নাছিমা অভিযোগ করে বলেন, টিটু’র লিখিত জবাব আমলে না নিয়ে সিসিক রহস্যজনকভাবে একই বছরের ৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফা আরেকটি নোটিশ প্রদান করে। এ নোটিশে তিনদিনের মধ্যে গৃহ ও দোকানকোঠা অপসারনের জন্য বলা হয়। এই নোটিশেরও লিখিত জবাব দেয় দেন টিটু। দ্বিতীয় নোটিশের জবাবে টিটু এ জায়গা নিয়ে মামলার বিষয়টি আবারো উল্লেখ করেন। এরপরও সিটি করপোরেশন তৃতীয় দফায় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন সজীব ও মহিলা কাউন্সিলর শাহানারা বেগম বরাবরে একটি নোটিশ প্রদান করে। নোটিশের অনুলিপি আমাদেরকেও দেয়া হয়। এতে কাউন্সিলরদ্বয়কে বলা হয়, বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করতে।
প্রশ্ন তুলে নাছিমা বলেন, যেখানে এ জায়গা নিয়ে মাননীয় আদালতে বাটোয়ারা মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের স্থিতাদেশও জারি আছে। সেখানে সিটি করপোরেশন বিরোধ নিষ্পত্তি করতে নোটিশ প্রদান করতে পারে কি না?
নাছিমা বলেন, কোনো বক্তব্যই আমলে না নিয়ে চৌহাট্টা-নয়াসড়ক রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে সিটি করপোরেশন প্রভাবশালী মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের দোকানকোঠা জোরপূর্বক উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। মাসখানেক আগ থেকে লিখিত কোনো নোটিশ না দিয়ে মৌখিকভাবে আমাদের দোকানকোঠা উচ্ছেদে আমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে। অথচ এ ভূমিতে আদালতের স্থিতাবস্থার কথা আমাদের জবাবে বারবার সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি।
মান্না ও মিটু স্থানীয় এক প্রভাবশালীর সহযোগিতায় আমাদের ভোগদখলে থাকা দোকানকোঠা উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুস্মরণপূর্বক আমরা সর্বাবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। যেহেতু মাননীয় আদালতে এ ভূমি নিয়ে স্বত্ব মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে, সেহেতু বিষয়টি সিসিক কর্তৃপক্ষকে বিবেচনার জন্য আবারো অনুরোধ করছি। সিসিকের নাগরিক হিসেবে এ ব্যাপারে মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন নাছিমা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাধবী গুণ, নাছিমার মা রোকিয়া খানম, বোন নাজমা বেগম।
Related News
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী: বাসদ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধনRead More
সিলেটে শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এই কুমারী পূজাRead More



Comments are Closed