Main Menu

বন্যায় ৯৮ জনের প্রানহানি, ক্ষতিগ্রস্থ ৫৮ লাখ মানুষ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে বন্যায় সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৯৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৩০টি জেলার ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ মানুষ। এছাড়া ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

শনিবার (১৯ আগস্ট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। সন্ধ্যায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ত্রাণ সচিব শাহ কামাল। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হয়।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় উত্তরের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এসব নদীতে পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৩০ জেলার ১৭৯ উপজেলা ও ৪৬টি পৌরসভার প্রায় ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৫০ পরিবারের ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন মানুষ এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, কুমিল্লা, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, রাঙামাটি, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও ঢাকা জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত।

ক্ষয়ক্ষতি
সারাদেশে মোট ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে গত এক সপ্তাহে।

#৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৩৯টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
#১৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৫০টি পরিবারের ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
#২৫৩২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত
#দুই হাজার ৭৮৯ কিলোমিটার রাস্তা, ১২৩টি ব্রিজ ও কালভার্ট, ২৮০টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত।

এ সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক কাজী শামছুদ্দীন আহমেদ জানান, আগামী ১০ দিন বৃষ্টিপাতের ধারা কম থাকবে। এতে বন্যা কমে আসবে। তবে এর পরে ফের অতিবৃষ্টি হতে পারে। তাতে আবারো একইরকম বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানানো হয়, বন্যার পানি নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর মেরামত-সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

সভায় জানানো হয়, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ বন্যা আক্রান্ত যে সমস্ত জেলা থেকে পানি নেমে যাচ্ছে সে সব জেলায় পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে। একইসঙ্গে ওইসব জেলার কৃষি, অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে।

সভায় আরও বলা হয়, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস কার্যক্রম জেলা-উপজেলা হয়ে ইউপি পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে।

এনজিওগুলোকে ঋণের টাকা আদায় স্থগিত করার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

Share





Related News

Comments are Closed