Main Menu

কমলগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেফতার ১

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মুঠোফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নিজ আস্তানায় আটকিয়ে রেখে ধর্ষণ করে হত্যার পর ধলাই নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ছাত্রী নিখোঁজের সাধারন ডায়েরীর সূত্র ধরে মুঠোফোনের কললিষ্ট নিরিক্ষা করে এক মাস পর বৃহস্পতিবার (১০ আগষ্ট) রাতে ঘাতক প্রেমিককে পুলিশ গ্রেফতার করে। থানায় ঘাতক প্রেমিক স্বাকারোক্তি দেয়। গত ১২ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ছাত্রীটি নিখোঁজ ছিল।
কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের গুলের হাওর গ্রামের মুসলিম মনিপুরী সম্প্রদায়ের দরিদ্র কৃষক তায়াম উদ্দীন ওলাবিয়া বেগমের মেয়ে রাবিনা বেগম (১৬) ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল আদমপুর ইউনিয়নের মাটিয়া মসজিদ এলাকার একই সম্প্রদায়ের মাওলানা আলিম উদ্দীনের ছেলে দেলওয়ার হোসেন (৩২)। এ সম্পর্কে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রমিক দেলওয়ার ছাত্রী রাবিনাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে ছাত্রীটি নিখোঁজ ছিল। ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে রেখে রাবিনার পরিবার প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে মেয়ের সন্ধান পাননি। এরপর স্থানীয় ইউপির ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মৃণাল কান্তি সিংহের সহায়তায় গত ২৪ জুলাই একটি মুঠোফোন নম্বরের উপর সন্দেহ করেই কমলগঞ্জ থানায় নিখোঁজের উপর একটি সাধারন ডায়েরী করেন।
এদিকে গত ১৫/২০দিন আগে কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রাম এলাকায় ধলাই নদীতে একটি মেয়ের লাশ ভেসে যেতে দেখেন এ গ্রামের মানুষজন। বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে কমলগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও নদীতে লাশ খোঁজার কোন উদ্যোগ গ্রহন না করায় পানিতে লাশটি ভেসে গেছে। সাধারন ডায়েরীতে সন্দেহমূলক মুঠোফোন নম্বরের কল লিষ্ট বের করে ফোনের মালিক নিখোঁজ ছাত্রীর প্রেমিক দেলওয়ার হোসেনকে বৃহস্পতিবার (১০ আগষ্ট) রাতে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। থানায় এনে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে নিজেই স্বীকার করেছে ছাত্রী রাবিনাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে তার একটি আস্তানায় রেখেছিল। গত ১৫/২০ দিন আগে প্রেমিকা ছাত্রীকে হত্যা করে আবার ধলাই নদীতে ফেলে দিয়েছে।
শুক্রবার কমলগঞ্জ থানায় উপস্থিত থাকলেও ছাত্রীর বাবা তায়ান উদ্দীন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ায় এ নিয়ে কোন কথা বলতে পারেননি। তবে তায়ান উদ্দীনের সাথে থাকা ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মৃণাল কান্তি সিংহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধারনা করা হচ্ছে ছাত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার পর থেকে তাকে আটকিয়ে রেখে তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে ছাত্রীকে হত্যা করেই লাশ নদীতে ফেলে দেয় ঘাতক প্রেমিক।
ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খুরশেদ আলী মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, রাবিনা বেগম নবম শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্রী ছিল। সে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে ১২ জুলাইয়ের পর থেকে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। তাদের ধারনা ছিল ছাত্রীটি অসুস্থ্য হতে পারে। বৃহস্পতিবার বিকালে ছাত্রীর মা লাবিয়া বেগম ছাত্রী নিখোঁজ ও থানায় জিডি করার কথা জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলী আরও বলেন, যেহেতু হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেহেতু তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
কমলগঞ্জ থানার ওসি বদরুল হাসান ছাত্রী নিখোঁজ, থানায় সাধারন ডায়েরী ও সন্দেহমূলক একজনকে আটকের পর তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধীর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখন এ ঘটনায় নতুন করে ছাত্রীর বাবা তায়ান উদ্দীন বাদী হয়ে একটি মামলা দিচ্ছেন। এ অভিযোগটিকে হত্যা মামলা হিসাবে গ্রহন করা হবে। শুক্রবার বিকালে পুলিশের উপস্থিতিতে দেলওয়ার কোথায় ও কিভাবে ছাত্রীকে হত্যা করে সে স্থান দেখায় বলেও ওসি বদরুল জানান।

Share





Related News

Comments are Closed