Main Menu

কুলাউড়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে খুন করেন বাবা!

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের বাগৃহাল গ্রামে নিজের মেয়ে রেহানা বেগমকে (১৭) ঘুমন্তবস্থায় হত্যা করেছিলেন বাবা আকছর আলী (৪৫)। মেয়ের প্রেমিকের সাথে বিয়ে না দিতে এবং নিজের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই পরিকল্পিতভাবে রেহানাকে হত্যা করেন তার পিতা। মেয়েকে হত্যার কথা পুলিশসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে স্বীকারও করেছেন আছকর আলী।
সোমবার বিকালে জেলার ৫ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি এ কথা জানান।
আদালতে ১৬৪ ধারার দেওয়া জবানবন্দিতে আকছর আলী জানান, মেয়েকে হত্যার পর ব্লেড দিয়ে নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশও রক্তাক্ত করেন তিনি। সন্ধ্যায় ঘাতক আছকর আলীকে মৌলভীবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেহানা দরজির কাজ করত। পাশের আশ্রয়গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়ার (২৫) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এ নিয়ে রেহানার বাবা আছকর তার মেয়েকে উত্যক্ত করার অভিযোগ এনে লাল মিয়ার বিরুদ্ধে চার মাস আগে কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সম্প্রতি লাল মিয়া রেহানাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে উভয় পরিবারই এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তবে লাল ও রেহানার মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, এর মধ্যে গত শুক্রবার বিকালে রেহানার মা শাহানা বেগম ছোট মেয়ে রোকশানাকে (৪) নিয়ে পাশের এলাকা হাজীপুর ইউনিয়নের কটারকোনা গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। পরের দিন শনিবার বিকালে বড় ছেলে আয়াত আলী (২২) তাদের আনতে ওই গ্রামে যায়। তখন ঘরে শুধু আছকর ও রেহানা ছিল। পরে গত ৯ জুলাই রবিবার সকালের দিকে পুলিশ বসতঘর থেকে গলাকাটা অবস্থায় রেহানার লাশ উদ্ধার করে।
এরপর আছকর আলী পুলিশের কাছে দাবি করেন, শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে লাল মিয়ার নেতৃত্বে চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে রেহানাকে জোর করে অপহরণের চেষ্টা চালায়। বাধা দেওয়ায় তারা আছকর ও রেহানাকে ছুরি দিয়ে কোপায়, এতে রেহানার মৃত্যু হয়। আছকরের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী ওইদিন বিকালেই তার স্ত্রী শাহানা বেগম লাল মিয়াকে প্রধান আসামি করে তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিনয় ভূষণ রায় বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিহতের বাবার কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে রবিবার রাতে আছকরকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। হত্যার সময় ব্যবহৃত ছুরিসহ ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তার স্বামী আছকরকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, রেহানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সত্যতা স্বীকার করেছেন লাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘কুলাউড়া উপজেলার গাজীপুরে এলাকায় চারদিন ধরে এক কাজে রয়েছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমাকে ফাঁসানোর কথা শুনে আমি চোখে অন্ধকার দেখছি।’
ঘাতক আছকির আলী জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে জানায়, মেয়ের প্রেমিকসহ কিছু প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আছকর আলী স্ত্রীসহ এক ছেলে ও এক মেয়েকে শাশুড় বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৩টায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়ে রেহানা বেগমকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। রেহানা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে রক্তমাখা জামা ছুরি লুকিয়ে ব্লেড দিয়ে নিজের মাথায় ও বাম পিঠে কেটে চিৎকার শুরু করে।
টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, স্থানীয় তিনজন ইউপি সদস্য, নয়াবাজার কমিটির ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি জানান, তাদের সামনে আছকির মিয়া স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছোড়া ও ব্লেড লুকানো স্থান থেকে বের করে দিয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed