Main Menu

‘ওরাল সেক্স’ বিপজ্জনক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মুখমেহন বা ‘ওরাল সেক্স’কে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওরাল সেক্সের কারণে গনোরিয়া হয়। আর কনডম ব্যবহারে অনীহা এটিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্বের গরীব দেশগুলোর মানুষ এতে বেশি ভুগছে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন না বা কেন আক্রান্ত হচ্ছেন সেটাও জানেন না।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গনোরিয়ার জীবাণুকে খুবই স্মার্ট জীবাণু মনে করা হচ্ছে। কারণ যতবার আপনি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর চিকিৎসা করতে চাইবেন, ততবারই তা প্রতিরোধের ক্ষমতা অর্জন করবে।

গনোরিয়ার জীবাণু সাধারণত যৌনাঙ্গ, মলদ্বার বা গলার ভেতরে সংক্রমণ ঘটায়। এর মধ্যে গলার সংক্রমণই চিকিৎসকদের সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণ গলাব্যথার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেও তাতে নেইসেরিয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। আর মুখমেহনের মাধ্যমে যদি গনোরিয়ার ব্যাকটেরিয়া (নেইসেরিয়া গনোরিয়া) ওই পরিবেশ পায় তাহলে তা ‘সুপার গনোরিয়া’ তৈরি করতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগের জীবাণু অ্যান্টোবায়োটিকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করছে। কার্যকর নতুন অ্যান্টোবায়োটিক উদ্ভাবনে খুব বেশি সাফল্য এখনো না আসায় পরিস্থিতি আরো বেশি নাজুক হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান সময়ে গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে তা প্রতিরোধ করা খুব কঠিন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। যৌনতার মাধ্যমে ছড়ানো ইনফেকশন এত বেশি দ্রুত ছড়ায় যে আর এন্টিবায়োটিকও কাজ করে না।

প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় সাত কোটি ৮০ লাখ মানুষ এ রোগের সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন, যা অনেকের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদানে অক্ষমতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রোগের লক্ষণ

এই রোগের লক্ষণ যখন প্রকাশিত হয়, তখন যৌনাঙ্গ থেকে হলুদ বা সবুজাভ পুঁজের মতো বের হতে পারে, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথ ও মূত্রনালিতে জ্বালা-পোড়া, পুঁজের মতো হলুদ স্রাব, তলপেটে ব্যথা ও ঋতুস্রাবে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ রোগ নিরাময় না হলে তা বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের ক্ষেত্রে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে শিশুর শরীরেও।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গনোরিয়ার আরো বিপদজনক হয়ে ওঠা ঠেকাতে দেশে দেশে পর্যবেক্ষণ জোরদারের পাশাপাশি নতুন ওষুধ তৈরির গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

 

Share





Related News

Comments are Closed