কমলগঞ্জের হাওর বিলে কারেন্ট জালের ছড়াছড়ি
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: স¤প্রতি টানা বৃষ্টিতে ধলাই নদীর চারটি ভাঙ্গন ও লাঘাটা ছড়াসহ বিভিন্ন ছড়ার বাঁধ ভেঙ্গে ঢলের পানি গ্রামের ফসলি জমিতে প্রবেশ করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন চলছে জাল কেনার বেচার ধুম। ফলে জলাবদ্ধ কমলগঞ্জ উপজেলার হাওর, বিল, জলাশয় সমুহে কারেন্ট জালের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। আনাচে কানাচে কারেন্ট জালে ছেয়ে গেছে পুরো অঞ্চল। ফলে মাছের পোনা থেকে শুরু করে সকল প্রকার জলজ প্রাণি মারা যাচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলা জুড়ে বন্যায় তলিয়ে গেছে মাছের খামার, পুকুর। পুরো অঞ্চলের পানি নিন্মাঞ্চলে গিয়ে জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের জলাবদ্ধ পানিতে এখন শোভা পাচ্ছে কারেন্ট জালের প্রতিযোগিতা। লাঘাটা নদী, কেওলার হাওর, মখাবিল, দেওছড়া এলাকা, পতনউষার, কেছুলোটি, ধূপাটিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় কারেন্ট জাল স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় শমশেরনগর বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে কারেন্ট জাল। মৎস্য শিকারীরা এসব জাল কিনে জলাশয়ে পোতে রাখছেন। বন্যার পানি নামার সাথে সাথে কারেন্ট জালের ছড়াছড়ি বেড়েই চলেছে। ঘন্টা দু’ঘন্টা পর পর জাল থেকে মাছ সহ অন্যান্য প্রাণি বের করে আনছেন অসাধু শিকারীরা। ফলে বিভিন্ন ফিসারি ও ফার্ম থেকে বেরিয়ে আসা নানা জাতের মাছ, পোনা মাছ, ব্যঙ, কুচিয়া, সাপ সহ সকল প্রকার জলজ প্রাণি কারেন্ট জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে ডিমওয়ালা মাছ। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, অব্যাহতভাবে ও অবাধ গতিতে কারেন্ট জালের ছড়াছড়ি শুরু হওয়ায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। কারেন্ট জালের পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে বাঁশের খাঁটি। মৎস্য আইনে কারেন্ট জাল ও আড়াআড়িভাবে বাঁশের খাঁটি স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও অবাধে চলছে এসব কার্যক্রম।
শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ ও পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ বাবু এখন খালে বিলে অবাদে কারেন্ট জাল স্থাপনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি নিষ্দ্ধি ও ক্ষতিকারক। এদের প্রতিহত করা উচিত। প্রতি বছর এভাবে জলাবদ্ধতার সুযোগে কারেন্ট জাল স্থাপন করে মাছ শিকার করা হয়। উপজেলা মৎস্য বিভাগ বিধি মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করলে পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও তারা জানান।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, অব্যাহতভাবে ও অবাধ গতিতে কারেন্ট জালের ছড়াছড়ি শুরু হওয়ায় সম্পূর্ণরুপে ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। কারেন্ট জালের পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে বাঁশের বেড়া (খাঁটি)। মৎস্য আইনে কারেন্ট জাল ও আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া(খাঁটি) স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও অবাধে চলছে এসব কার্যক্রম।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, বন্যার পানিতে উপজেলার সবকটি খামার থেকে মাছ বেরিয়ে গেছে। এগুলো নদী হাওরে ছড়িয়ে পড়েছে। নানা জাতের ছোট বড় এসব মাছ শিকারে অসাধু শিকারীরা কারেন্ট জাল সহ নানা তৎপরতা শুরু করেছে। এ ব্যাপারে ব্যাপক সচেতনতা ও অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
Related News
শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর ইউনিয়নে ফলদ, ভেষজ ও বনজ বৃক্ষচারা বিতরণ
সালেহ আহমদ (স’লিপক): পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বিপ্লব জোরদারের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২নংRead More
নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর ধলাই নদী থেকে টমটম চালকের মরদেহ উদ্ধার
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্যাটারিচালিত টমটমসহ ধলাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টাRead More



Comments are Closed