ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি
কামরুল হাসান সবুজ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ছাতকে দীর্ঘ একমাস থেকে বর্ষণ ও অতি বর্ষণে পাহাড়ি নদীসহ নদ-নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধিসহ এখানে চৈত্র মাসেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। কেড়ে নিয়ে গেছে উপজেলার ৮৫ হাজার কৃষকের বোরো ফসল। এতে সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ মার্চ ছিল ১৪২৩ বাংলার ১৭ ফাল্গুন। ১মার্চ থেকেই শুরু হয় এখানে বৃষ্টি। ১১ মার্চ (২৭ফল্গুন) খালে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায় তালুকপাড়া গ্রামের সালেহ আহমদ। এরপর থেকে বৃষ্টি থামেনি। এভাবে ১৫মার্চ তথা ১চৈত্র থেকে বৃষ্টির মাত্রা ক্রমশঃ বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। ২৪ মার্চ তথা ১০চৈত্র থেকে অবিরত ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বোরো ফসলের ভবিষ্যত নিয়ে কৃষকের মন অজানা আতঙ্কে কেঁপে উঠে। এরপর থেকে এখানে রোদের ঝিলিক প্রত্যক্ষ করা না গেলেও ভারি বর্ষণে জনজীবন ছিল পুরোপুরিই বিপর্যস্ত। এরপর থেকে পাহাড়ি নদী ধলাই, পিয়াইন, চেলা, মরা-চেলা, সুরমা নদী ও ১২টি খালসহ হাওর-বিলের পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। এদিকে ভারি বর্ষনে উপজেলার শতাধিক হাওর-বিলের কাঁচা বোরো ফসল তলিয়ে যায়। এরপর ১ এপ্রিল রাতে স্মরণকালের ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে শহরসহ উপজেলার সর্বত্র এক থেকে দু’ফুট পরিমানে শিলার স্তুপে পরিণত হয়। বড় আকারের শিলাগুলো ১০/১২ ঘন্টা পরও গলে নিঃশেষ হতে দেখা যায়নি। এখন পানিতে সর্বত্র সয়লাব হয়ে গেছে। বাকি থাকেনি বোরো ফসল থেকে কৃষকের একবেলাও খাবারের কোন ব্যবস্থ্া। হাওরের উপর থৈ থৈ করছে চৈত্রি বন্যার পানি। যা- ইতোপূর্বে এমনটা দেখেননি কেউ। স্থানীয়রা এটিকে প্রলয়ঙ্করী বন্যা হিসেবেও অভিহিত করছেন। কৃষকদের ধারণা, পানিতে তলিয়ে না গেলেও যে পরিমানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে তাতে ফসল রক্ষা করা ছিল অত্যন্ত দুষ্কর। শিলার আঘাতে গাছ-পালা, ঘরবাড়ি, দোকানপাট, পোল্ট্রি ফার্মসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোমবার সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার প্রায় দু’ থেকে তিন ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আগাম বন্যায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে সুনামঞ্জের ২৫টি নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার প্রায় সহ¯্রাধিক হাওর-বিলের মোট ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার হেক্টর জমি এখন পানির নীচে। ফলে আড়াই লক্ষাধিক পরিবারের বোরো ফসল আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। জেলাবাসি সরকারের কাছে সুনামগঞ্জকে দূর্ঘত এলাকা ঘোষনার দাবি জানিয়েছেন।
Related News
লাফার্জহোলসিমের উদ্যোগে ছাতকে মৎস্য চাষীদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জ্ঞান ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষকRead More
ছাতকের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন ঢাকায় গ্রেপ্তার
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী হাজী স্বপন মিয়াকে (৫২)Read More



Comments are Closed