Main Menu

নাসিরপুরে নিহত সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স কয়েক মাস

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজারের নাসিরপুর(ফতেহপুর) গ্রামের বাগান বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা থেকে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় সাত থেকে আটজনের লাশের মধ্যে চারটি শিশুর লাশ রয়েছে। শিশুদের বয়স কয়েক মাস থেকে শুরু করে ১০ বছরের মধ্যে।
এর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী শিশুটির বয়স কয়েক মাস বলে জানিয়েছেন ময়নাতদ্ন্তকারী চিকিৎসক। বিস্ফোরণে শিশুটির দেহ এতই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে যে এটা ছেলে না মেয়ে বোঝার উপায় নেই।

আজ শুক্রবার বেলা পৌনে ৩টা দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন পৌঁছায়। এরপরই শুরু হয় ময়নাতদন্ত। বিকেল পাঁচটায় শেষ হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পার্থ সারথী দত্ত বলেন, ছিন্নভিন্ন লাশের যেসব অংশ এসেছে তা ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। চারটি শিশুর মধ্যে বাকি তিনটির বয়স ২ বছর, ৭ বছর ও ১০ বছর। আর নারী দুজনের একজনের বয়স ২৫ ও অপরজনের ৩৫ বছর। পুরুষটির বয়স ৩৫ বছর।

পার্থ সারথী আরও জানান, লাশগুলিতে মোটা তারের টুকরোর মতো ধাতব বস্তু পাওয়া গেছে। লাশগুলো এখানে আনার দুই একদিন আগেই তাদের মৃত্যু হয় বলে মনে হচ্ছে। পচনও ধরেছে, তবে তাদের চেহারা বোঝা যাচ্ছে। প্রাপ্ত বয়স্ক তিনজনের পেটের অংশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রতিটি লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছিল। তাঁরা হলেন: সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সুব্রত কুমার রায়, জুনিয়র কনসালট্যান্ট আবু ইমরান ও আরএমও পলাশ রায়।

গত বুধবার ভোরে শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাসিরপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানাটি শনাক্ত করা হয়। প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর এই আস্তানা থেকে ‘ছিন্নভিন্ন সাত থেকে আটজনের লাশের অংশ’ পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশের ধারণা, গত বুধবার বিকেলেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয় তারা। নিহত সবাই একই পরিবারের সদস্য। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশের ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষে ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনে ব্রিফ করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা সূত্র ধরে কাজ করছিলাম। নিহত ব্যক্তিরা নব্য জেএমবির সদস্য, সেটা আমরা মোটামুটি নিশ্চিত।’ তিনি বলেন, বাসার তত্ত্বাবধায়কের তথ্যমতে ওই ভবনে নিহত ব্যক্তিরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। তবে পুলিশ সে তথ্য যাচাই-বাছাই করতে পারেনি।

Share





Related News

Comments are Closed