Main Menu

সিলেটে ১০টাকা কেজি’র চাল নিয়ে জালিয়াতি

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট সদরের হাটখোলায় নাম-স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হত-দরিদ্র প্রকল্পের (১০টাকা কেজির) চাল বিতরণের ডিলারশীপ দেয়া হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের চাল উত্তোলন ও বিতরনে অনিয়ত-আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক এক ইউপি মেম্বার অন্য ইউনিয়নের ব্যক্তির নাম-স্বাক্ষর ব্যহার করে ডিলাশীপ নিয়ে চাল বানিজ্য ও আত্মসাত করে চলেছেন। খাদ্য অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অভিযোগে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত-দরিদ্র প্রকল্পের (১০টাকা কেজি’র) চাল কিক্রয় ও বিতরনের জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যনিয়ন্ত্রন অফিস থেকে ডিলারশীপ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরই এ ডিলারশীপ দেয়া হয়ে থাকে। সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের শিবেরবাজার ও পিঠারগঞ্জ বাজারে দেয়া হয়েছে ইউনিয়নের দু’জনের নামে ডিলারশীপ। শিবের বাজারের ডিলার হচ্ছেন সাবেক ইউপি মেম্বার ফারুক আহমদ। আর পিঠারগঞ্জ বাজারের ডিলারশীপ দেয়া হয়েছে সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের সতেরো গ্রামের নূরুল ইসলামের নামে। কিন্তু সতেরো গ্রামের নূরুল ইসলাম আদৌ কোন ডিলারশীপ নেননি এবং সিলেট সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিস থেকে তার নিজ স্বাক্ষরে চালের কোন ডিও লেটারও দেয়া হচ্ছে না। মূলত পিঠারগঞ্জ বাজারে হত-দরিদ্রদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ১০ টাকা কেজি দামের চাল এর ডিলার হচ্ছেন উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দিঘলবাক নোয়াগাঁও এর সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুন নূর। জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে হাটখোলা ইউনিয়নের সতেরো গ্রামের নূরুল ইসলামের নাম-স্বক্ষর ব্যবহার করেই আব্দুন নূর পিঠারগঞ্জ বাজারে এ ডিলারশীপ নিয়ে গেছেন। আব্দুন নূর তার নিজের মোবাইল ফোনকে (০১৭৩১৯৯২৬১৭) নূরুল ইসলামের মোবাইল ফোন বলে ব্যবহার করছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিসে। পাশাপাশি হাটখোলার সতেরো গ্রামের নূরুল ইসলামের নামে স্বাক্ষর বসিয়ে সাবেক ইউপি মেম্বার আবুদন নূর খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিসের ডিও লেটার ও চাল গ্রহণ করছেন। চাল উত্তোলন বিক্রি ও আত্মসাত করে চলেছেন এ নামেই। বিনিময়ে সিলেট সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিসের অসাধু কর্মকর্তা তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।
সিলেট সদর উপজেলা খাাদ্যনিয়ন্ত্রন অফিস সূত্র জানায়. ডিলার নূরুল ইসলামের নামে গত বৃহস্পতিবার (১৬মার্চ) হত-দরিদ্র প্রকল্পের ১৭৭ বস্তা চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ চাল ১৭, ১৮ ও ২১ মার্চ (শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার) তিনদিন হত-দরিদ্রদের মধ্যে বিতরনের কথা। কিন্তু শনিবার (১৮মার্চ) সরেজমিন হাটখোলার পিঠারগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ডিলারের দোকান ঘরের সাটার বন্ধ। এ দোকানে কোন চালই আসেনি এবং শুক্র ও শনি দুইদিন চাল নিতে আসা দরিদ্ররা চাল না পেয়েই বাড়ি ফিরেছেন।
স্থানীয়রা জানান, জালালাবাদ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুন নূর নিজেকে হত-দরিদ্র (১০টাকা কেজি) চালের ডিলার বলে আমাদের জানিয়েছেন এবং উপজেলা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বাজারের সাইফ ভেরাইটিজ ষ্টোর নামের দোকান ঘরে তিনি নিজেই চাল বিতরন-বিক্রি করে থাকেন। অনেক সময় নির্ধারিত তারিখে দরিদ্ররা এসে চাল না পেয়ে চলে যায়। তবে চাল বিতরনের নির্ধারিত দিন শুক্র ও শনিবার অনেক দরিদ্র পুরুষ-মহিলাকে চালের জন্য অপেক্ষমান থাকতে দেখা গেছে।
চাল বিতরনের দ্বিতীয় দিন শনিবার সরেজমিনে ডিলার নুরুল ইসলাম বা কথিত ডিলার আব্দুন নূরকে দোকানে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুন নূর নিজেই ডিলার দাবি করে সাংবাদিকদের জানান, ১৭৭ বস্তা চাল উত্তোলন করা হয়েছে, তবে বিতরনের এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এসময় তিনি সিলেট সদর উপজেলা ট্যাগ অফিসারের মোবাইল নাম্বার দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
সিলেট সদর খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিসের ট্যাগ অফিসার ফজলুল হক সাংবাদিকদের জানান, হাটখোলা ইউনিয়নের পিঠারগঞ্জ বাজারের ডিলার হচ্ছেন ওই ইউনিয়নের সতেরো গ্রামের নুরুল ইসলাম। নুরুল ইসলামের নাম স্বাক্ষরে যিনি ডিও লেটার নিয়ে চাল উত্তোলন করে থাকেন তিনিই আমার উপস্থিতিতে চাল বিতরন করে থাকেন। নুরুল ইসলাম সেজে আব্দুন নূর ডিলার হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন জানান, আমার ইউনিয়নের ব্যক্তির নামে অন্য ইউনিয়নের ডিলারশীপ থাকার কথা নেই। এ ধরনের কোন জালিয়াতি হয়ে থাকলে এর বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed