Main Menu

সুনামগঞ্জে তিনদিনের আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে তিনদিনের আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু হয়েছে। শহরতলীর আব্দুজহুর সেতুর পাশে খোলা মাঠে আয়োজিত ইজতেমা ময়দানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে তাবলীগ জামাত হয়ে সুরমা নদীর পাড়ে জড়ো হচ্ছেন লাখো মুসল্লি। সেই সাথে বিদেশী মেহমানরাও এসেছ পৌঁছেছেন।
এ বছর ইজতেমায় ১২ লক্ষাধীক মুসল্লির আয়োজন করা হয়েছে। জেলার সকল উপজেলার জন্য আলাদা আলাদা কিত্তা করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এবার অনুষ্টিত হওয়ায় ইজতেমায় ধর্মপ্রান মুসলমানদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দিপনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, তিনদিনের ইজতেমায় জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, জেলা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, জেলা সিভিল সার্জন, ফায়ার সাভির্স, জেলা বিদ্যুৎ বিভাগ, সুনামগঞ্জ পৌরসভা, বাস পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংঘটনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সব ধরনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইজতেমা শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে।
প্রতিদিন দুই ৫০০শতাধিক পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে। সেই সাথে র‌্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছে। এই ইজতেমা তিনদিন ব্যাপি ৯,১০,১১ই র্ফেরুয়ারী পর্যন্ত অনুষ্টিত হবে। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রান মুসল্লিদের আগম ঘটবে। বিদেশী মেহমানদের জন্য ময়দানের পাশেই তৈরী করা হয়েছে আলাদা জায়গা। ইজতেমায় দাওয়াতি কাজে জামাতবন্ধী হবে ১২টি দেশের একাধিক জামাত জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদে মসজিদে দাওয়াতি কাজ করছেন।
ইজতেমা মাঠকে উপজেলা অনুসারে রাখা হয়েছে ১১টি কিত্তায়। প্রতি কিত্তাকে একাধিক ভাগ করা হয়েছে। পুরো মাঠ জুড়ে প্রায় ৩২০০টি খুঁটিতে ভাগ করা হয়েছে। একেক খুঁিটতে প্রায় পাঁচশত লোক প্রতি জামাত খুঁটি অনুযায়ী অবস্থান করবে। ইজতেমায় আগত মুসিল্লীদের জন্য সীমানার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বার্থে মেইন গেইট সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়ক টোল পয়েন্ট ও বৈটাখালি খেয়াঘাট,তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়ক,সুরমা নদীর পাড়ে সহ ৫টি মূল সড়ক রাখা হয়েছে।
মুসল্লিদের বিদ্যুাতের সমস্যা না হওয়ায় জন্য ইজতেমা ময়দানে ৫টি ট্রান্সফামার বসানো হয়েছে,অজু করার জন্য অস্থায়ী ১হাজারের অধিক অজু খানা,অস্থায়ী ১হাজার শৌচাগার ও ১হাজার টয়লেট,বিশুদ্ধ পানির জন্য ৫টি ডিভটিউবয়েল,৩টি পাওয়ার পাম্প,প্যান্ডেলের ভিতরে রাতে আলোর জন্য ২ হাজার লাইট, ২ শতাধিক মাইক,গোসলের জন্য সুরমা নদীতে বিশেষ ব্যবস্থায় নির্মান করা হয়েছে ও মুসল্লিদের রান্না করা সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়াও মাঠের ভিতরে পাঁচটি চলাচলের রাস্তায় নিদের্শনা মতে যোগাযোগ করবেন জামায়াতবন্ধীরা। একেক জামায়াত দায়িত্ব নিদিষ্ট দায়িত্ব পালনে কাজ করবে অসংখ্য জামাত। মুছুল্লিদের পানি সরবারাহে কাজ করবে পানির জামাত, সাউন্ড ও মাইক সরবারাহে থাকবে মাইক জামাত, বয়ান আমলে কাজ করবে জুরনে ওয়ালি জামাত, ইজতেমা শেষে জামাতবন্ধীদের চিল্লা গঠনে কাজ করবে তাশকিল জামাত, মেহমানদের খেদমতে থাকবে একটি জামাত, পথ নিদের্শনায় কাজ করবে একটি জামাত, ইজতেমা মাঠের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে কাজ করবে একটি জামাত, বোবা বা কালা,বাক প্রতিবন্ধী লোকদের বয়ান শুনতে ও বুজানোর দায়িত্বে থাকবে একটি জামাত। এছাড়াও মাঠের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে সেচ্চা শ্রমের ভিত্তিতে।
প্যান্ডেলের ভিতরে ও বাহিরে নিরাপ্তÍার স্বার্থে বসানো হয়েছে ৩০সিসি ক্যামেরা, পথ চারিদের নিবির পর্যবেক্ষনের জন্য বসানো হয়েছে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার, নিরাপ্তÍার দায়িত্বে থাকবে পাঁচশত পুলিশ সদস্য। মাঠে পুলিশের দুটি কন্ট্রোল রুম। পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, বিজিবি ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দ সংস্থার অসংখ্য সদস্য মোতায়েন থাকবে।
আব্দুর জহুর সেতুর সম্মুখে ও বড়ঘাট এলাকায় বসানো হয়েছে দুটি চেকপোষ্ট। ইজতেমার মাঠের পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা না রাখলেও বিসিক শিল্প নগরী মাঠে আগত মুসল্লিদের যানবাহন রাখার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবায় থাকবে একদল দক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে তৈরী মেডিকেল টিম। মুসুল্লিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কয়েকটি পয়েন্টে মেডিকেল টিম কাজ করবে। মুসুল্লিরা বেশী অসুস্ত হলে হাসপাতালে দ্রুত নেওয়ার জন্য সার্বক্ষনিক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারী হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা শয্যা ছাড়াও অতিরিক্ত শয্যা বাড়িয়ে মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইজতেমা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন জানান, এবছর ১২ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির জন্য ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে মানুষ একমাস ধরে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন। এছাড়া ইজতেমায় মুসল্লিদের জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন আমাদের সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করছে। সেই সাথে আমাদের পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করছে। এই ইজতেমায় ১১টি উপজেলার ধর্মপ্রান মুসলমানগন নিজ নিজ উদ্যোগে এখানে এসে প্যান্ডেল বানানোর জন্য বাঁশ, অজুখানা, টয়লেট, শৌচাগার নির্মানসহ সব ধরনের কাজ করছেন। আমরা আশা করি মহান আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির আশায় ইজতেমা সফল ও স্বার্থক হবে।
পুলিশ সুপার হারুর নর রশিদ জানান, ইজতেমায় সার্বক্ষনিক পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য বিচ্চক্ষনতার সাথে নিরাপত্তার কাজ করবে। শুরু থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য ইজতেমা মাঠে মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দ সংস্থা, র‌্যাবসহ অসংখ্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আগত ধর্মপ্রান মুসল্লিদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেছি ও সব বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে ইজতেমা শরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুশৃংখল ভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃংখলা রক্ষা করা থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আগামি শনিবার দুপুর ১২টায় আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে ইজতেমার সমাপ্তি হবে।

Share





Related News

Comments are Closed