Main Menu

বিশ্বনাথে ‘তীর খেলা’র নামে জমজমাট জুয়ার আসর

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথের মুফতিরবাজারে চলছে ভারতীয় ‘তীর খেলা’র নামে জমজমাট জুয়ার আসর। ফলে বিপদগামী হচ্ছে এলাকার তরুণ-যুবকরা। দীর্ঘদিন ধরে এই জুয়ার আসরটি চলে আসলেও নিরব ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন। সচেতন মহলের মতে যদি দ্রত এই জুয়ার আসর বন্ধ করা না হয় তাহলে এলাকার তরুণ যুবকরা যেমন অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়বে তেমনি এলাকায় চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাবে।
জানা গেছে, ২০ থেকে ২৫ বছর পূর্বে ভারতীয় ধনকুবেরা এ রকম খেলা আবিস্কার করে। এর নাম রাখে মেঘালয়ের আঞ্চলিক ভাষায় ‘তীর খেলা’। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে অনুষ্ঠিত ‘তীর খেলা’য় অংশ হিসেবে বিশ্বনাথ উপজেলার মুফতির বাজারে বসেই জুয়ায় বাজি ধরা হয়। বাজারে দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে এদেশীয় এজেন্টরা (সরকার দলীয় লোক) ভারতের জুয়ার আসরের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয় করে। বিশ্বনাথে স্থানীয় ভাবে খেলাটিকে বলা হয় টুকা খেলা, নাম্বার খেলা, বোটকা খেলা, ভাগ্য পরীক্ষা খেলা, ডিজিটাল নাম্বর খেলা। রিক্সা চালক, অটোক্সিা চালক ও বেকার যুবকরা এই ‘তীর খেলায়’ অংশ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই খেলা চললেও এদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে খেলা আয়োজকদের মাধ্যমে থানা পুলিশসহ সংশ্লিস্টদের হাতে পৌছে যাচ্ছে ভাগবাটোয়ারা।
সূত্র জানায়, এদেশের এজেন্টদের মাধ্যমে ১-৯৯ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করা হয় যে কোন মূল্যে। যত মূল্যে বিক্রয় হবে তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হবে বিজয়ী নম্বরকে। অর্থাৎ ১ টাকায় ৭০ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন। সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি টাকা পাবেন। চরকির মত একটি চাকা ঘুরে এবং এই চাকা লক্ষ্য করে তীর ছোড়া হয়। যে নম্বরে তীর লাগবে সেই নম্বর বিজয়ী।
এই তীর খেলা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। সপ্তাহে ৬দিন খেলাটি পরিচালিত হয়। অন্ধ বিশ্বাসের উপর এ খেলা চলে। খেলাটি ভারতের রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনসহ প্রতি রবিবার ছাড়া বাকী সকল দিবসে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন বিকাল বেলা ভারতের শিলং এ মোবাইল ফোনের মাধ্যেমে খোঁজ নেন কোন সংখ্যার লটারি লেগেছে। তারপর তা মূহুর্তের মধ্যই ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আর যারা তীর খেলার সংখ্যা কিনেন তখনই তারা জানতে পারেন কে লটারি জিতেছেন। এ ক্ষেত্রে হঠাৎ কোনদিন কেউ লটারি জিতলে তার লোভে পড়ে অন্যরা আসক্ত হড়ে পড়ে এই খেলার প্রতি।
বাজারের হোটেল রেষ্টুরেন্টগুলোতে আগে যেখানে মানুষ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতো কিন্তু এখন তাদের আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে তীর খেলা। কে কত টাকার তীরের সংখ্যা কিনলো এবং কে কত টাকা পেল। বিশেষ করে তরুণ যুব সমাজের এই খেলার সাথে সম্পৃক্ততা বেশী। সাধারণ শ্রমিকদের অনেকেই এই খেলার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ কর্মের প্রতি মনোনিবেশ হারিয়ে ফেলেছে। সারদিন শুধু তীর খেলায় ব্যস্ত থাকেন। এর কারণে দিন দিন তাদের পারিবারিক অস্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যখন পকেটে টাকা না থাকে তখন অনেকেই তাদের ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে এই তীর খেলার সংখ্যা ঘর কেনেন। আবার কেউ-কেউ চুরির মতো অপরাধমূলক কাজ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। ফলে এলাকাবাসী অনেকটাই আতঙ্কগ্রস্থ। এ অবস্থা চলতে থাকলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। যেভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে তীরের নাম্বার বিক্রি করছেন তাতে করে অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন। এই তীর খেলা বন্ধ করতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াসউদ্দিন বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সম্বন্নয় সভায় আমার পরিষদের সদস্য ফজলুল হক তীর খেলার বিষয়টি অবহিত করেছেন। শুধু তীর খেলাই নয় এলাকায় জুয়াসহ সকল অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। দ্রত এই জুয়ার আসর (তীর খেলা) বন্ধ করতে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম পিপিএম সাংবাদিকদের বলেন, শুধু তীরখেলাই নয় যে কোন ধরনের জুয়া অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধ করতে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। প্রশাসন এ ব্যাপারে সার্বক্ষনিকভাবে তৎপর রয়েছে। তীর খেলার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পেলে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed