তাহিরপুরে রামদার কোপে শিক্ষক ও জেএসসি পরীক্ষার্থীসহ আহত ১২
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জেএসসি পরীক্ষার হল থেকে দায়িত্বপালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন এক সহকারি শিক্ষককে সড়কে ফেলে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। এসময় পিঠিয়ে আহত করেছে জেএসসি পরীক্ষার্থীকে। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে নারী সহ কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে ওই শিক্ষকের বসতবাড়ি ভাংচুর ও পরিবারের ৬ সদস্যকে পিঠিয়ে আহত করেছে।
উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের সুনামগঞ্জ সড়কে বুধবার বেলা দেড়টায় ও ২টার দিকে দুই দফায় কামড়াবন্দ গ্রামে সংঘর্ষ ও এ তান্ডবলীলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে জেএসসি পরীক্ষার্থী সালমান নুর সহপাঠীদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামের মাঠে খেলাধুলা করার সময় প্রতিবেশী গোলাম রব্বানী ও তার স্ত্রী সালমানকে খেলাধুলা করতে নিষেধ করে। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হলে স্বামী স্ত্রী দু’জন মিলেই সালমানকে গালিগালাজ করলে সালমানও পাল্টা গালি গালাজ করে। গ্রামবাসী এ নিয়ে পরদিন বুধবার বিকেলে সালিসের উদ্যোগ নেন।
এদিকে বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন শেষে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষক মইনুল হক তার জেএসসি পরীক্ষার্থী ভাতিজা সালমান নূরকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোলাম রব্বানী, তার ছেলে জাফরুল, চাতাত ভাই তুহিন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা পথরোধ করে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ওই শিক্ষক ও তার সাথে থাকা ভাতিজাকে জখম করে ফেলে রেখে যায়। এ খবর ওই শিক্ষকের বাড়িতে পৌছলে বেলা ২টার দিকে উভয় পরিবারের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংগঠিত হয়ে ওই শিক্ষকের বসতবাড়িতে ভাংচুর ও তান্ডব চালায়।
হামলা ও সংঘর্ষে আহতরা হলেন, সহকারি শিক্ষক মইনুল হক, তার ভাই সাজুল, শফিক, শফিকের স্ত্রী হাফসা বেগম, তাদের ছেলে জেএসসি পরীক্ষার্থী সালমান নুর, সহোদর আয়াননুর ও সাজুলের অপর ছেলে মিজান নূর। আহতদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় শিক্ষক মইনুল, জেএসএসসি পরীক্ষার্থী সালমান নূর, আয়ান নূরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের গোলাম রব্বানী, তার ছেলে জাফরুল, আকিনূরের ছেলে তুহিন ও মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে মালদার আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত জাফরুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, আমার বাড়ির সামনে খেলাধুলা না করতে নিষেধ করায় শফিকের ছেলে সালমান নূর আমি ও আমার স্ত্রীকে মঙ্গলবার গালিগালাজ করে, আমরা তাকে গালিগালাজ করিনি।’ তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে পরিবারের অভিভাবকদের নিকট নালিশ করার পর তারা তাতে সাড়া না দেয়ায় আমার ছেলে জাফরুল সড়কে মইনূলের সাথে কথাকাটাকাটি করলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
সহকারি শিক্ষক মইনুল হক বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় রাতেই আমরা ভতিজাকে শাসন করেছি, বুধবার বিকেলে সালিশে বসার কথা ছিল, কিন্তু দুপুরে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গোলাম রব্বানী, তার ছেলে জাফরুল, আকিনুরের ছেলে তুহিন পথরোধ করে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আমাকে জখম করে এবং সালমান নূরকে রড দিয়ে পিঠিয়ে আহত করে। এতকিছুর পরও তারা পুন:রায় একই পরিবারের ১২ থেকে ১৫ জন লোক আমার বসত বাড়িতে গিয়ে ভাংচুর করে এবং পরিবারের নারী সহ আরো ৬ সদস্যকে পিঠিয়ে আহত করে।
তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর বুধবার বিকেলে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি, ছোট ছোট ছেলেদের মঙ্গলবার খেলাধুলায় বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি গালিগালাজ করার জের ধরেই বুধবারের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।’ অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।’
Related News
ছাতকের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন ঢাকায় গ্রেপ্তার
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী হাজী স্বপন মিয়াকে (৫২)Read More
১৮ শ্রমিকের মৃত্যু, তবুও থামছে না কয়লা চোরাচালান
হাবিব সরোয়ার আজাদ: জাতীয় পত্রিকা, টিভির প্রতিবেদন এবং তাহিরপুর থানার অপমৃত্যু মামলা-সংক্রান্ত ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী,Read More



Comments are Closed