Main Menu

তাহিরপুরে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় মা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের পিতৃহীনা ১৪ বছরের কিশেরীকে ধর্ষণের ঘটনায় বুধবার রাতে ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তাহিরপুর থানায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা হল, উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আবদুল জলিল (২৩) ও তার মা রহিমা খাতুন (৪২)।
ভিকটিমের মা বাদী হয়ে বুধবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলা সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের পিতৃহীনা দরিদ্র পরিবারের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে একই গ্রামের কাচুর ছেলে জলিল বাড়ির দরজার সামনে থেকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ওই কিশোরীকে জঙ্গলে ফেলে চলে আসলে ধর্ষিতা জলিলের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণকারীর মা রহিমা খাতুনের নিকট ঘটনা খুলে বলে। রহিমা বেগম প্রথমে বিচার সালিসের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে এ ব্যাপারে মুখ খুললে কিশোরীর বিধবা মা ও ভাইদের গ্রামছাড়া এমনকি খুন করানোর হুমকি দিয়ে বিদায় করে দেন।
পরে ওই রাতেই সালিস বসানো হয় অভিযুক্ত ধর্ষণকারীর নিকটাত্বীয় রেজ্জাকের বাড়িতে। অভিযুক্ত জলিলের পিতা ও চাচাদের নিয়ে বসা সালিসে টাকা পয়সা খরচ করে বিয়ের বয়স হলে কিশোরীকে অনত্র বিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সালিসীগণ উঠে যান।
এদিকে ধর্ষিতা কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে ব্যর্থ হবার পর চিকিৎসা ও আইনি সহযোগীতা নিতে বাঁধা দেয়ার জন্য গ্রামের সড়কে ও কিশোরীর বাড়ির চারপাশে কাঁচুর লোকজন ওই রাত থেকে বুধবার দিনব্যাপী পাহাড়া বসানো হয়। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু লোকের সহযোগীতায় বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে ওই কিশোরী অন্যের মুঠোফোনে গণমাধ্যকর্মীদের ঘটনাটি জানিয়ে চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পেতে পুলিশের সাহায্য চায় ।
এরপর ওই কিশোরী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে বিকেলে থানার ওসি ঘটনাটি তদন্তের জন্য বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দায়িত্ব দেন।
এদিকে তদন্তের নামে ফাঁড়ির ইনচার্জ সময় ক্ষেপন করতে থাকেন । এমনকি ওই কিশোরীকে অভিযোগ করার কারনে ফাঁড়িতেই কয়েকদফা গালি-গালাজ ও উল্টো শাসাতে থাকেন। ভিকটিম নিজে পুলিশ ফাঁড়িতে বসে ফাঁড়ির ইনচার্জের এ অসধাচরণের কথা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের অবহিত করে। সন্ধার পর সুন্দর পাহাড়ি গ্রামে ঘটনার তদন্তের নামে অভিযুক্ত জলিলের পিতা ও স্বজনদের সাথে যোগসাজস করে ভিকটিমের মা ও ভাইদের মামলা করলে হয়রানী বাড়বে বলে বিষয়টি আপোসের জন্য চাঁপ সৃষ্টি করেন।
তবে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই একেএম জালাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে ভিকটিম ও তার পরিবারের লোকজনের আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কুমার ধর বৃহস্পতিবার জানান, বুধবার রাতেই দু’জনের বিরুদ্ধে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

Share





Related News

Comments are Closed