কানাইঘাটে পরকীয়া প্রেমের বলি প্রেমিক ইমরান
কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের কানাইঘাটের টেইলারিং ব্যবসায়ী ইমরান হোসেনকে গলা কেঁটে, লিঙ্গ কর্তন করে, হাত ও পা ভেঙ্গে হত্যার পর রাতের আধারে তার লাশ চটের বস্তায় ভরে বস্তার নীচ অংশে গাছের সাথে বেঁধে পরকিয়া প্রেমিকার বাড়ির পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিক ইমরান হোসেনকে খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে ইমরানের কথিত প্রেমিকা সুহাদা বেগমসহ আটককৃত তিনজন। এমন তথ্য জানিয়েছেন কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির।
এই জবানবন্দির সূত্র ধরে শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জুনেদ আহমদ, এএসআই জগদীশ, এএসআই আব্দুল মান্নান সহ একদল পুলিশ সুহাদার শ্বশুড়বাড়ির পুকুর থেকে ইমরান হোসেনের ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে।
পরে ইমরান হোসেনের লাশ থানায় নিয়ে আসা হলে থানা প্রাঙ্গনে লোকে লোকারন্য হয়ে যায়। নিহতের আত্মীয় স্বজনরা ইমরানের গলা কাটা লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
পুলিশ সূত্র জানায়, কানাইঘাট উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মো. আবু বক্করের ছেলে কানাইঘাট পৌর শহরের চয়েস টেইলার্সের মালিক দর্জি ইমরান হোসেনের (২৪) সঙ্গে দীর্ঘদির ধরে একই উপজেলার ৫নং বড়চতুল ইউপির দূর্গাপুর দক্ষিণ নয়াগ্রামের সৌদি প্রবাসী বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগমের পরকীয় সম্পর্ক ছিল। নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীরা জানান, গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সুহাদা বেগমের ভাই ইমরান আহমদ ও তার নিকটাত্মীয় জাহাঙ্গীরের মোটর সাইকেল যোগে মিষ্টি ও বিস্কুট নিয়ে সুহাদার স্বামীর বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায় প্রেমিক ইমরান হোসেন। এরপর ইমরান আর বাড়ি ফিরেনি। তার কোন সন্ধান না পেয়ে নিখোঁজের দুইদিন পর তার পিতা আবু বক্কর কানাইঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।
এরপরও ছেলের সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার থানায় সুহাদা বেগম (২১) ও তার ভাই ইমরান আহমদ (২৪), দেবর মাসুম আহমদ (৩০) ও ২নং লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের উমর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৩) এর নাম উলেখ করে উক্ত ৪ জনসহ আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৯, তারিখ- ১৯/০৯/২০১৬ইং।
এরপর কানাইঘাট থানার পুলিশ ইমরান হোসেন নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সুহাদা বেগমের দেবর মাসুম আহমদ ও নিকটাত্মীয় জাহাঙ্গীর আহমদকে গ্রেফতার করে।
তাদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী ইমরান হোসেনের পরকীয়া প্রেমিকা সুহাদা বেগমকে শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ইমরান হোসেন হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। সোমবার রাতেই ইমরান হোসেনকে তার বসত ঘরে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার পর পুকুরে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করে সুহাদা।
নিহত ইমরান হোসেনের পিতা আবু বক্কর সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার হিসাবে কর্মরত আছেন।
অপরদিকে প্রবাসী বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগমের পিতার বাড়ী ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী (কালীজুরী) নয়াখান গ্রামে। সে ঐ গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী তাজুল ইসলামের ১ম মেয়ে।
স্থানীরা জানান, সৌদি আরব প্রবাসী তাজুল ইসলামের বাড়ী সীমান্তবর্তী ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়ী এলাকা কালীজুরী গ্রামে হওয়ায় ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করানোর জন্য কানাইঘাট উপজেলা সদরের পুরাতন থানা সংলগ্ন সুরমা নদীর পারে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। আর এ বাসার পার্শ্বেই পরকিয়া প্রেমিক ইমরান হোসেনের চয়েস টেইলার্সের দর্জি ব্যবসার দোকান ছিল। এই দোকানে সুহাদা তার পরিবারের লোকজন জামা-কাপড় সেলাই করাতেন। এই সুবাদে ইমরান হোসেনের সাথে প্রেমিকা সুহাদা বেগমের স্কুল জীবন থেকেই অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এতে এই অবধ্য প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি সুহাদার পরিবার। তারা বছর দেড়েক পুর্বে প্রেমিক ইমরান হোসেনের হাত থেকে সুহাদা বেগমকে রক্ষা করতে চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে ইমরান হোসেন সুহাদা বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
এতে দর্জি ইমরান হোসেনের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে সুহাদার পরিবার। তারা একই উপজেলাধীন ৫নং বড়চতুল ইউপির দূর্গাপুর দক্ষিণ নয়াগ্রামের বাসিন্ধা সৌদি প্রবাসী বদরুল ইসলামের সাথে সুহাদার বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের কিছুদিন পর সুহাদার স্বামী বদরুল ইসলাম সৌদি আরবে চলে গেলে সুহাদার সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি সুহাদার শশুড় বাড়ীর লোকজন সুহাদার পিতা মাতা ও নিকট আত্বীয়দের অবহিত করলে তারা উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে ইমরান হোসেন কে বারবার সতর্ক করেন। এতে তাদের কথায় কর্নপাত না করায় তারা উভয় পরিবারই পরকিয়া প্রেমিক ইমরান হোসেনের প্রতি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইন্চার্জ মো. হুমায়ুন কবির জানান, আটককৃত সুহাদা বেগম, তার দেবর মাসুম আহমদ ও জাহাঙ্গীর আহমদ ইমরান হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা উভয়েই সলাপরামর্শ করে পরিকল্পিত ভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটায়। তিনি বলেন, ইমরান হোসেন খুনের ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Related News
জৈন্তাপুরে বাসের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রিখেল মসজিদের সামনে পর্যটকবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষেRead More
ওসমানীনগরে মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৩ ছাত্রলীগ নেতা আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।Read More



Comments are Closed