কোনটা শ্রেয় ধর্ম, না নীতি??
গোপাল অধিকারী: ধর্ম বইয়ে পড়েছি নীতিহীন মানুষ পশুর সমান। আর সেই মানুষ যদি পশু হয় তবে তার কাছে কোন মানব সমাজের মত ধর্ম থাকার কথা নয়। বিষয়টা নিয়ে কয়েকদিন অনেক ভাবনার পর নিজে সমাধান দিতে পারলাম না । মনে হলো কোনটি শ্রেয়? ধর্মই শ্রেয় না নীতিটা শ্রেয়? কারণ হিসেবে মাথায় আসলো অনেকে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করে তাতে সে এক ধর্মের কাছে ঘৃর্ণিত হলেও অন্য ধর্মের কাছে সমাদৃত হয়। কিন্তু যে নীতি ভঙ্গ করে সে সকলের কাছে ঘৃর্ণিত হয়। তাই ভাবলাম বিষয়টা লেখার মাধ্যমে উপস্থাপন করি পরে বিজ্ঞজনদের সাথে চা-আলাপে সমাধান খুঁজি। ধর্ম নিয়ে লিখতে আবার একটু দুঃচিন্তায় পরেছিলাম। ফেসবুকে যেভাবে দেখি এক ধর্মের মানুষ হয়ে অন্য ধর্মকে কিছু অতি ধার্মিক মানুষ কটাক্ষ করে বা ধর্মকে কেন্দ্র করে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করা হয় তাতে তাদের কাছে আমি অতি নগন্য শিক্ষার্থী কি না ভুল করে বসি তাতে আবার আমার গোষ্ঠীর ষষ্টী পূজা না করতে আসে। তবু ও লিখলাম কারণ কথায় আছে “খালি পাতিল বাজে বেশি”। তাই যারা নিজেকে অতি ধার্মিক বলে মনে করে, যারা নিজ ধর্মকে একটু বেশি বড় করতে নিজের অজান্তেই অন্যের ধর্মকে হেয় করে বসে তবে তাদের জন্যতো জ্ঞান অর্জনের পথ রুদ্ধ হতে পারে না। কারণ জানার কোন বয়স নেই, শিক্ষার কোন শেষ নেই। সে যে ধর্মেরই হোক। এ কথা সার্বজনীন যে জ্ঞানীরা কখনও কোন ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করে না। ধর্মকে নিয়ে তারা ইস্যু তৈরি করে না। তারা মতামতের মাধ্যমে সঠিক তথ্যটি বোঝাতে চেষ্টা করে। আর যারা ধর্মের “ধ” জানে না তারা ধর্ম গেলো বলে দৌড়ায়। আর বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। কিন্তু আমার মনে হয় সবচেয়ে বড় ধর্ম মানব ধর্ম। ধর্মের ভিত্তি হলো নীতি। যার নীতি নেই সে কোন ধর্মের মানুষ না। সুতরাং সেই আলোকে নীতিই একটি ধর্ম বা ধমের্র অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বইয়ে পরেছি আমরা যা ধারণ করি তাই ধর্ম। সুতরাং এটা ভাবতে পারি যে ধর্ম হলো আমাদের একটা নীতি-আদর্শ যা মেনে চলতে হবে। তাই আমরা ধর্মকে ধারণ করি। কিন্তু বাস্তব কথা হলো আমরা সবাই মানুষ। সকল ধর্মেই বলা আছে নীতিহীন মানুষ পশুর সমান। সুতরাং আমাদের নীতিটা আগে মনে রাখতে হবে। আমার যদি মুখে ধার্মিক বলে বক্তৃতা করি অন্যদিকে ধর্মের কোন কাজ না করি, নীতিহীন কাজ করি তবে ধর্ম রক্ষা পাবে না। বরং ধর্মকে কলঙ্ককিত করা হবে। প্রত্যেক ধর্মেই বলা আছে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে হবে। অন্যের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। তবে যারা নিজ ধর্মের নীতি অমান্য করে অন্যের ধর্মে আক্রমন করে তারা কোন ধর্মের?? অনেকে আছে অন্যের ধর্মকে চরিতার্থ করে নিজের ধর্মকে বড় করতে চায় তাদের জন্য একটা পরামর্শ নিজের ধর্মকে শ্রদ্ধার সাথে অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করলে আর নিজের ধর্মের নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে পালন করলেই কেবল বড় হওয়া যায়। ধর্মের পেছনে দৌড়ালে অন্যে ধর্ম নিয়ে অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিলে সুবক্তা বা ধর্ম বিশেষজ্ঞ হওয়া যায় না, এর জন্য প্রয়োজন ধর্মীয় গ্রন্থের অনুশীলন। সংবিধানে উল্লেখ আছে কোন ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না তবুও বার বার কেন ধর্মকে ব্যবহার করে ইস্যু তৈরির চেষ্টা চলে সেটা আমার বোধ্যগম্য নয়। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ সেটা সকল ধর্মের । সুতরাং আমরা ভাবতেই পারি আমরা সবাই মানুষ, আমরা সবাই ভাই ভাই শুধু জন্মের প্রতি বিশ্বাস রাখতে ধর্মকে ধারণ করি। ধর্মকে মান্য করি। এটা সকলের সাংবিধানিক অধিকার। এটা বেঁচে থাকার অধিকার। তাই আসুন আমরা নীতিকে পরিশুদ্ধ করি, নিয়ম-নীতি অনুযায়ী কাজ করি। ধর্মীয় বিভেদে পরিচিত না হয়ে নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে আত্মশুদ্ধি করি।
লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক।
Related News
জাপানের দরজা খোলা, চৌকাঠ উঁচু
হক মোঃ ইমদাদুল: বদলে যাওয়া জাপানে বিদেশিদের ভবিষ্যৎ কোথায়? জাপানের সঙ্গে দীর্ঘ প্রবাসজীবনের সম্পর্ক যাঁদের,Read More
স্ত্রীর আয় নয়, সংকট পুরুষের পুরোনো পরিচয়ে
হক মোঃ ইমদাদুল: একটি সংসারে স্ত্রী যখন স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করতে শুরু করেন, তখনRead More



Comments are Closed