সিলেটের ’মায়াবন’র হিজল গাছ আর পাখির কলকাকলি টানছে পর্যটকদের
মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে : মেঘ-পাহাড়ের দেশ সিলেট। আর সিলেটকে দেশ বিদেশে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলছে সীমান্ত উপজেলা গোয়াইনঘাটের নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট। বিছনাকান্দি, পান্তুমাই, জাফলং আর রাতারগুলকে ছাড়িয়ে এখন পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করছে জুগিরকান্দি ‘মায়াবন’। মায়বনের চারদিকে অথৈ পানিতে ভাসমান মন ভুলানো সবুজ প্রকৃতি। এখানে নেই কোন কোলাহল, আছে শুধু পাখির ডাক। মাঝে মাঝে মৃদু বাতাসে জলাভূমির ছোট ছোট ঢেঁউ আছড়ে পড়ে গাছের সঙ্গে। হিরন্ময় নিরবতার মাঝে সে সব শব্দে পর্যটকদের মুগ্ধ করেছে মায়াবন। জলাভূমির মধ্যে কমর ডুবিয়ে দাড়িয়ে থাকা সারি সারি হিজল, জাম, বরুণ, করচ গাছের বিশাল এক জঙ্গল। এতই ঘন জঙ্গল যে ভেতরের দিকটায় সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে জল ছুতে পারে না।
মায়বনের গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির বন্য প্রাণি আর পাখি। মায়াবনে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল। ভরা বর্ষায় এ জলাভূমির যৌবনে পূর্ণতা পায়। ছোট ডিঙ্গি নৌকায় বৈঠা বেয়ে বনের ভেতরে যেতেই কানে আসবে পাখপাখালির কল-কাকলি, জলের কলকল শব্দ। এখানে আছে মাছরাঙ্গা, বিভিন্ন প্রজাতির বক, ঘুঘ, ফিঙ্গে, বালিহাস, টুনটুনি, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পখি। বন্য প্রাণির মধ্যে আছে উদবিড়াল, কাঠবিড়ালি, শিয়াল, মেছো বাঘ ইত্যাদি। বিভিন্ন প্রজাতির গুইসাপ, নানা ধরণের সাপের অভয়াশ্রমও এই বনে রয়েছে। মায়াবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই নিঃশব্দে যেতে হবে। কোন রকম শোর-গোল, চিৎকার, চেচামেচি করলে এর প্রকৃত সোন্দর্য কোন ভাবেই উপভোগ হবেনা। নিরবে ঘুরলে পানির ভেতর অবস্থিত এই বনের ঘুঘুর ডাক ও নানা রকম বন্য প্রাণির সাক্ষাৎ মেলে। এটাই মায়া বনের প্রকৃত সৌন্দর্য্য।
গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নে জুগিরকান্দি হাওরে অবস্থিত এ নয়নাভিরাম বনের নাম স্থানীয়ভাবে দেওয়া হয়েছে ‘মায়াবন’ । প্রায় ১ হাজার একর ভূমি জুড়ে বিস্তির্ণ এ বন তার রূপের মায়াবী ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করে। মায়াবনের নিবিড় প্রকৃতি মনকে নিয়ে যায় রূপকথার অজানা দেশে। যেখানে প্রবেশ করলে আর ফিরে আসতে মন চায় না। ডাহুক, ঘুঘু, সারি, দোয়েল-শ্যামাসহ নাম না জানা অসংখ্য প্রজাতির পাখির কূজনে বিমোহিত প্রাণ বনের গভীর থেকে গভীরে হারিয়ে যাবার বাসনা যোগায়। স্বচ্ছ-স্নিগ্ধ পানির উপরে পতিত বৃক্ষের জল ছবিতে পানসির (ছ্টো নৌকা) দোলানো ছোট ছোট ঢেঁউ যেন চতুর্দর্শী নর্তকির নৃত্যাভিনয়। ভ্রমণ প্রিয় ব্যক্তি মাত্রই এমন বনে ঘোরে আসতে মন চাইবে। এছাড়া এখানে রয়েছে জলের উপর ভাসমান সারি সারি হিজল ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি। বনের দক্ষিন পাশ ঘিরে রয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে কাশবন। মায়াবনের উত্তরে রয়েছে সারী ও পিয়াইন নদীর মিলনস্থল, যেখান থেকে নৌকা যোগে জাফলং, রাতারগুল কিংবা লালাখাল ঘুরে আসা যায়। পূর্ব দিকে রয়েছে কুরুন্ডি ও রৌয়াসহ বিশাল বিশাল বিলের মধ্যে শাপল ও পদ্ম ফুলের সমারোহ। পশ্চিম দিকে রয়েছে দেশের অন্যতম মূর্তা বাগান।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক হয়ে ৩৭ কি.মি অতিক্রম করার পর সারীঘাট হয়ে যেতে হয় মায়াবনে। সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক দিয়ে, সারীঘাট থেকে ৮ কিমি অতিক্রম করে বেখরা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে যাত্রা বিরতী করতে হয়। এখান থেকে ভাড়ায় চালিত পানসিতে (ছোট নৌকা) চড়ে বেখরা খাল হয়ে, খালের দু’তীর জুড়ে শ্যামল চাদরে আবৃত লোকায়ত বাংলার রূপ দেখতে দেখতে মিনিট দশেকের মাথায় প্রবেশ করতে হয় মায়াবনে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন জানান গোয়াইনঘাট উপজেলা পর্যটন খ্যাত। এদিকে জুগিরকান্দি মায়াবন‘র সৌর্ন্দয ব্যতিক্রম।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী জানান গোয়াইনঘাটকে পর্যটন এলাকা ঘোষনার জন্য ইতিপুর্বে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেছি। জুগিরকান্দি মায়াবন সহ সকল পর্যটন এলাকার উন্নয়নে সর্বাত্নক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
Related News
সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইট বাড়াল সালামএয়ার, সপ্তাহে ৫টি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যাত্রী চাহিদা বাড়ায় সিলেট-মাস্কাট রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়েছে ওমানভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা সালামএয়ার।Read More
১ নভেম্বর থেকে খুলছে সেন্টমার্টিন, মানতে হবে যেসব নিয়ম
পর্যটন ডেস্ক: আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৭Read More



Comments are Closed