Main Menu

বন্যায় মৃত্যু ৬০ জনের, বাড়ছে রোগ-বালাই

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : বন্যা দুর্গত এলাকায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে রোগের প্রাদুর্ভাব। ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালীর প্রদাহসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বানভাসীরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেল্থ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বানের পানিতে ডুবে গত ৯দিনে শিশুসহ ৫৫ জন ও সাপে কাটায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। উপদ্রুত এলাকায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে তিন হাজার মানুষ। উপদ্রুত এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দিতে চিকিৎসাকর্মীদের ৭০০ দল কাজ করছে বলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, ১৬ জেলার ৭২ উপজেলার ৩৭৮ ইউনিয়নের ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৪টি পরিবার এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জরুরি সাড়া দান কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন জানান, দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি জিআর চাল, জিআর ক্যাশ, প্যাকেটজাত শুকনো খাবার, গুঁড়সহ পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী রিপন কর্মকার জানান, নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আর মধ্যাঞ্চলের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৯০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৭টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে বয়ে যাচ্ছে পানি। পূর্বাভাস কর্মকর্তারা আশা করছেন, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার বন্যা পরিস্থিরি উন্নতি অব্যাহত থাকবে। রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিও স্থিতিশীল থাকতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেল্থ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পানি কমছে, সঙ্গে বাড়ছে রোগের প্রভাব। পানি কমলে দুর্গত এলাকায় দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ায় ডায়রিয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালীতে প্রদাহসহ পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।” এ সময় বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খুব দরকার বলে জানান তিনি।
এ কর্মকর্তা জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে বিভিন্ন রোগে ৩ হাজার ৩২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন; যাদের মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি। এ সময় ২৮১ জন ডায়রিয়া, ৯৪ জন আরটিআই, ৮১ জন চর্মরোগ, ৪৮ জন চোখের প্রদাহ, ২৬ জন বিভিন্ন আঘাত এবং ১০৮ জন অন্যান্য রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। পানিতে ডুবে ও সাপে কাটায় লোকজন মারা গেলেও রোগে আক্রান্ত হয়ে এখনও কারও মৃত্যু হয়নি বলে সাখাওয়াত হোসেন জানান। “গত নয় দিনে যারা মারা গেছে, তাদের অধিকাংশই শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবেই ১০ জন মারা গেছে।”
নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তারা জানান, সাময়িক সময়ের জন্য কোথাও কোথাও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের সঙ্কট দেখা দিলেও দ্রুততার সঙ্গে কয়েক লাখ ট্যাবলেট তৈরি করে মজুদের জন্য অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানিকে বলা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed