ঝিনাইদহের ৩৬৫টি পূজা মন্দিরে পুলিশের নজরদারী
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে পুরোহিত হত্যার পর দেশে বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জেলার ৩৬৫টি পূজা মন্দিরে পুলিশের বিশেষ নজরদারী চলছে। পুরোহিতদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্দির, গীর্জা ও উপাসনালয়ের পুরোহিতদের নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখছে পুলিশ।
এ সব তথ্য জানিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ। তিনি আরো জানান, পুরোহিতদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ পালাক্রমে ডিউটি করছে। মন্দিরের কর্মকর্তাদের কাছে পুলিশের মোবাইল নাম্বার দিয়ে যে কোন সময় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব মিডিয়ায় ঝিনাইদহের পুরোহিত হত্যার খবর ফলাও করে প্রচার হওয়ার পর সরকার ও বিরোধীদলের প্রভাবশালী নেতা এবং মন্ত্রীরা আসছেন অজপাড়া গাঁ খ্যাত কোরাতিপাড়া গ্রামে। পুলিশ পুরোহিত হত্যার মামলা নিয়ে টেনশনে আছে। হিমশিম খাচ্ছেন খুনিদের গ্রেফতার ও মামলাটি তদন্ত নিয়ে। ঘটনার পরদিন গত বুধবার (৮ জুন) ভারতীয় দুতাবাসের দুই কর্মকর্তা ফাস্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) রাজেশ উকাইয়া ও কনসুলার রমাকান্ত গুপ্ত ঘুরে গেছেন কোরতিপাড়া গ্রাম। তারা এসে সমবেদনা জানিয়ে পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
সরকারের মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ গত শুক্রবার পুরোহিতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে মহিষের ভাগাড় রাস্তাটি পাকা করে আনন্দ গোপালের নামে নাম করণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিন হিন্দু বৈদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঝিনাইদহ জেলা নেতারা পুরোহিতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে হত্যার বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী দেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধূরী শনিবার পুরোহিতের বাড়িতে আসেন সমবেদনা জানাতে।
তিনি এ সময় বলেন, রাজনৈতিক ভাবে দোষারোপ না করে ঝিনাইদহের পুরোহিত হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তা না হলে দেশে একের পর এক হিন্দু স¤প্রদায়ের মানুষ খুন হতে থাকলে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বিঘ্নিত হবে।
এ ছাড়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার, জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, কেন্দ্রীয় পুজা উদযাপন পরিষদের নেতা বাবু কনক কান্তি দাস, ঝিনাইদহ জেলা হিন্দু বৈদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুবীর কুমার সমাদ্দারসহ সরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্নি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন সর্বক্ষন নিহত পুরোহিতের পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
সর্বশেষ পুলিশের পক্ষ থেকে পুরোহিত হত্যার মোটিভ ও ক্লু উদ্ধারের দাবী করা হলেও নিহতর পরিবার এ নিয়ে সন্তষ্ট নয়। তারা দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চান। নিহত আনন্দ গোপালের স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলী, ছেলে অরুন গাঙ্গুলী, সিন্ধু গাঙ্গুলী, মেয়ে রিনা গাঙ্গুলী, মিনা গাঙ্গুলী ও আর্চনা গাঙ্গুলীসহ পরিবারের সদস্যরা সোমবার জানান, খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তারা শান্তি পাচ্ছেন না। স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলী কান্না ভেজা কন্ঠে জানান, সরকারী সহায়তা আর মন্ত্রী এমপিদের আশ্বাস দিয়ে আমাদের কি হবে ? যদি স্বামী হত্যার খুনিরা গ্রেফতার না হয়।
উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষারভাগাড় বিলে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী ওরফে নন্দকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আনন্দ গোপাল সদর উপজেলার কোরতিপাড়া গ্রামের মৃত সত্য গোপালের ছেলে। এ হত্যাকান্ডের পর আইএস এর নামে দায় স্বীকার করা হয়।
Related News
যশোরে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৪
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যশোর শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় চারজনকেRead More
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষাথীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদকসেবনের অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্নRead More



Comments are Closed