ইবাদতের উর্বর মওসুম রমজান
এহসান বিন মুজাহির: রমজান মাস মুমিনের বসন্তকাল। ফার্সী একটি প্রবাদ ‘মাহে রমজান বাহারে কুরআন’। অর্থ্যাৎ রমজান মাস হচ্ছে কুরআনের বসন্তকাল। মানবতার মুক্তির সনদ কুরআন কারীম অবতীর্ণের মাস রমজান। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,‘রমজান হলো ওই মাস, যে মাসে কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করা হয়েছে লোকদের হিদায়াতের জন্য এবং সত্য পথযাত্রীদের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা ও সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নিরুপণকারী হিসেবে। ( -সূরা বাকারা:১৮৫)
মহান আল্লাহপাক রমজানের রোজাকে মুমনিদের উপর ফরজ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কুরআনুল কারীমের সুরায়ে বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরয করা হলো যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
রমজান ও রোজার ফজিলত:
হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল ইরশাদ করেন, ‘যখন রমজান মাস আসে তখন আসমানের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয় এবং দোযখের দরজাসমুহ বন্ধ করা হয় আর দুষ্টু শয়তানকে শিকলবদ্ধ করা হয়। অপর এক বর্ণনায় আছে রহমতের দরজা সমুহ খুলে দেয়া হয়।(-বুখারি ও মুসলিম)
হযরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেন রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, ‘বেহেশতের আটটি দরজা আছে তন্মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়্যান’। কেবল রোজাদারদের জন্যই এটা। রোজাদাররা ব্যতীত ঐ দরজা দিয়ে কেউই প্রবেশ করতে পারবে না। (-বুখারী ও মুসলিম)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘রোজা এবং কুরআন (কিয়ামতে) আল্লাহর নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে হে পরওয়ারদিগার আমি তাকে দিনে আহার-খানা ও প্রবৃত্তি হতে বাধা দিয়েছি সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন এবং কুরআন বলবে আমি তাকে রাতে নিন্দ্রা হতে বাঁধা দিয়েছি সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। রাসুল (সাঃ) বলেন উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে। (-বায়হাকী,শুআবুল ঈমান)
হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোজা রাখে সে যেন কোন রকম অশ্লীলতা ও হৈ হুল্লোড় না করে। কেউ যদি তাকে গালাগালি করে তথা তার সাথে ঝগড়া করে সে যেন বলে আমি রোজাদার। (-বুখারী ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যরে মাস মাহে রমজান’। (-বায়হাকী)
রোজা সর্ম্পকে নবী করীম (সা.) বলেন, ‘আদম সন্তাানের প্রতিটি ভাল কাজের বিনিময় দশগুণ থেকে নিয়ে সাতশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
আল্লাহপাক বলেন, রোজা ব্যতীত, কারণ তা কেবল আমারই জন্যে। এ জন্যই যে, সে আমারই জন্য প্রবৃত্তির দাবিকে উপেক্ষা করেছে এবং পানাহার ত্যাগ করেছে। (-হাদিসে কুদসী)
রাসুল বলেন, ‘রোজা হলো জাহান্নাম থেকে রক্ষার আযাব রক্ষার ঢাল স্বরুপ। সুতরাং কোন রোজাদার যেন অশ্লীল কথা না বলে, মন্দ ও গর্হিত কর্মকান্ডে লিপ্ত না হয়, ঝগড়া বিবাদ এড়িয়ে চলে । কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে তাহলে সে যেন একথা বলে দেয় যে আমি রোযাদার । (-বুখারি ও মুসলিম)
রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করায় তাদের উভয়ের সমান সওয়াব হয়, অথচ ইফতার গ্রহীতার সওয়াবে কিঞ্চিত পরিমাণও কম করা হয় না । (-সুনানে নাসাই ও মুসনাদে আহমদ)
রাসুল (সা:) ইরশাদ করেন, রোজাদারের আনন্দ দু’ সময়ে একটি হলো; ইফতারের সময়, আরেকটি হল তার প্রতিপালকের সাক্ষাতের মুহুর্তে। (-বুখারি)
রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মৃগনাভীর সুঘ্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়। (-বুখারি ও মুসলিম)
নবীজী (সা.) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে পুণ্যের আশায় রোযা রাখে আলাহপাক তাঁর পূর্বকূত সকল পাপ ক্ষমা করে দেন। (-মুসলিম)
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও অশালীন কর্মকান্ড পরিত্যাগ করে না, তার পানাহার ত্যাগ করা আল্লাহর কাছে কোন মুল্য রাখে না। (-বুখারি)
লেখক: সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।
Related News
রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে
ধর্ম ডেস্ক: ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর)Read More
তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মাওলানা মছব্বিরের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারRead More



Comments are Closed