Main Menu

আপা আসবেন প্রস্তুত থাকেন ফাঁসির রশি নিয়ে: কর্নেল অলি আহমদ

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, “এখন তো মাঝে মাঝে শুনি আপা আসবেন, সাথে দুলাভাইও আসবেন নাকি। আপা তো আসবেন, কিন্তু এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যে সাথে দুলাভাইকেও নিয়ে আসতে হবে। আপনারা প্রস্তুত থাকেন ফাঁসির রশি নিয়ে। এই ফাঁসি ঢাকা কারাগারে হবে না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করতে হবে।”

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিলেটের জামাতা উল্লেখ করে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, “তিনিও চান, আমরাও চাই একটা সুন্দর বাংলাদেশ, জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ। এটা তখনই সম্ভব যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ হবে।”

তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে হবে, বিএনপির প্রধানমন্ত্রী না।” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পদক্ষেপ স্মরণ করে তিনি বলেন, “আপনি দালাল-চাটুকারদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে এই সংস্কারগুলো করেন।”

তিনি আরও বলেন, “একই ব্যক্তি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না—এই প্রস্তাব ১১ দলীয় ঐক্যজোট দিয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। আপনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী না হয়ে দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হন।”

জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশংসা করে এলডিপি সভাপতি বলেন, “আমি ১৯৭৫ সালের পর থেকে জামায়াতের রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আজকে তাদের শৃঙ্খলা, তাদের দলের মধ্যে যে ধরনের ঐক্য, সশস্ত্র বাহিনীতেও এইরকম নেই।”

Manual5 Ad Code

তিনি দেশের রাজনৈতিক শক্তির সমীকরণ তুলে ধরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজকে যদি তিনজন নেতা একসাথে হয়ে যান—জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম এবং শাইখুল হাদিস মামুনুল হক—এই তিন নেতা এক হলে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে। সরকার পালানোর কোনো পথ পাবে না।”

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, এই তিন নেতা একজোট হলে যেকোনো সময় ঢাকায় ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হবেন এবং টঙ্গী, সায়েদাবাদ ও মিরপুরের সড়ক বন্ধ করে দিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে। আপনি অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। দেশের মানুষের কথা ভেবে চিন্তা করেন। মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকবে না। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে, টাকা দিয়ে নয়।”

Manual8 Ad Code

বর্তমান সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে সভাপতির বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে। আপনার দলের লোকেরা দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানগুলো পাহারা দিচ্ছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে ভবিষ্যতে ‘এক দফা, এক দাবি—এই সরকার কবে যাবি’ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

Manual5 Ad Code

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

সিলেটের এই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়েই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দেশব্যাপী চলমান বিভাগীয় কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটল।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code