শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৪ বছরের ইতিহাসে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি ৩৯ জন শিক্ষক। তাদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়া ৩৯ জন শিক্ষক নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাত বছরের শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ করেছেন, আবার সাত থেকে আটজন শিক্ষক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছুটির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের দুই বছর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটির আবেদন করতে পারেন। মাস্টার্স বা এমফিল ডিগ্রির জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর এবং পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বেতনসহ শিক্ষা ছুটি ভোগ করা যায়। প্রয়োজন হলে আরও দুই বছর বেতন-ভাতাবিহীন ছুটির সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাত বছর পর শিক্ষককে কর্মস্থলে যোগদান করতে হয়, অন্যথায় চাকরি বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় সীমিত হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যোগদান না করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দুই থেকে তিন দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়া কয়েকজন শিক্ষকের কাছেও প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আরও ১১ থেকে ১২ জন শিক্ষককে কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্য প্রাথমিকভাবে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, অডিট আপত্তির তথ্য অনুযায়ী শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে কিছু শিক্ষক আংশিক অর্থ পরিশোধ করেছেন। কয়েকজন সময় চেয়েছেন এবং কেউ কেউ কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের আবেদন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে লাভজনক হতে পারে, তবে এটি রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর দেশে না ফেরার প্রবণতা আমাদের দেশে উদ্বেগজনক। এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। এসব পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব না হওয়ায় শিক্ষক সংকট তৈরি হয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপরও।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিবর্তে অনেক শিক্ষক বিদেশে স্থায়ী হওয়ায় উচ্চশিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হচ্ছে।
Related News
শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ৩৪ বছরের ইতিহাসে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাRead More
বর্ণাঢ্য আয়োজনে সিকৃবিতে এগ্রিফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত
Manual7 Ad Code সিকৃবি সংবাদদাতা: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) কৃষি অনুষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যRead More



Comments are Closed