Main Menu

ইরানের মিসাইল হামলার সামনে অসহায় হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র!

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ড্রোন আর মিসাইলের লড়াইয়ে উত্তপ্ত। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার মাত্র ১২ দিন পার হতে না হতেই বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা।

Manual4 Ad Code

বুধবার (১১ মার্চ) মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে গিয়ে ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা গোলাবারুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার পথে।

Manual4 Ad Code

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইন্টারসেপ্টরের এই ঘাটতি দেশগুলোকে এক কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সীমিত গোলাবারুদ দিয়ে কোন লক্ষ্যবস্তুটি ধ্বংস করা জরুরি আর কোনটি উপেক্ষা করা যেতে পারে, তা নির্ধারণ করতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো। আকাশ প্রতিরক্ষায় এই ‘সিলেক্টিভ’ বা বাছাইকৃত পদ্ধতি বেছে নেওয়া দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, যুদ্ধের যে তীব্রতা এবং ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যাওয়ার যে গতি, তার তুলনায় এই টাস্কফোর্ড গঠনের উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর। ফলে মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব এশিয়ায় দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বলয় শিথিল করে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিজেদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ হঠাৎ সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত বলে জানায় তারা।

Manual2 Ad Code

পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের রক্ষা করা এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। এরই অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু কাউন্টি থেকে থাড ব্যবস্থার বিভিন্ন ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ এক সাক্ষাৎকারে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করতে তাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

Manual2 Ad Code

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোলাবারুদের মজুত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। তবে তার এই বক্তব্যের ঠিক বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে মার্কিন সাময়িকী দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভ–এর এক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উচ্চমাত্রার সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অভূতপূর্ব গতিতে কমে যাচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যেভাবে ডজন ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ পরিচালনা করছে, তাতে ইন্টারসেপ্টর খরচ হওয়ার হার আকাশচুম্বী। একটি দামি ইন্টারসেপ্টর দিয়ে সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই ব্যয়বহুল। চলমান উত্তেজনা যদি আরও কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকে, তবে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং এর ফলে দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারগুলো সরাসরি হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code