শাহপরান (রহ) মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হযরত শাহজালাল (রহ) এর মাজার জিয়ার শেষে হযরত শাহপরান (রহ) এর মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তারপর রাত সাড়ে ৯টায় শাহজালাল মাজার জিয়ারত করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে তার গাড়িবহর রাত সোয়া ১১টার দিকে শাহপরাণ (রহ) মাজারে গিয়ে পৌঁছায়। মাজার জিয়ারত শেষে ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলামে তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ির পথে রওনা দেন।
এর আগে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
সিলেট সফরে তারেক রহমানের সাথে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ছাড়াও বিএনপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন— বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, তারেক রহমানের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা একেএম শামসুল আলম, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এবং মহাসচিবের ব্যক্তিগত সহযোগী ইউনূস আলী।
এছাড়াও প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন— সৈয়দ মঈন উদ্দীন আহমেদ, মিয়া নুরুদ্দীন অপু, সালেহ শিবলী, আহমেদ আলী, মো. কামাল উদ্দীন ও এএনএম মনোয়ারুল করিম।সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা।
অতীতের মতো এবারও নির্বাচনী রাজনীতির প্রচলিত রীতি অনুসরণ করে বিএনপি তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করছে সিলেট থেকে।
২১ বছর পর সিলেটে এসেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। বুধবার রাতে তিনি সিলেট এসে পৌঁছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। এই জনসভার মাধ্যমেই শুরু হবে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা।
রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরেও সিলেটের সাথে রয়েছে তারেক রহমানের অন্যরকম সম্পর্ক। সিলেটে তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়ি। বুধবার সিলেটে এসে স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেও যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সকালে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। দলীয় প্রধানের দৃষ্টি কাড়ার জন্য আলীয়া মাদ্রাসা মাঠসহ নগরীজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা লাগিয়েছেন ব্যানার, বিলবোর্ড, ফ্যাস্টুন। চলছে সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি।
সকাল ১০টার দিকে তিনি নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে। এসময় তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিএনপির প্রার্থীদেরকে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
ইতোমধ্যে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। রাত থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন মাঠে।
সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সভা করার কথা রয়েছে বলেও দলীয় নেতারা বলছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচারনা শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রেখেছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে চব্বিশের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন।
সিলেট সফর উপলক্ষে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বৃহস্পতিবারের সমাবেশে সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখ বা তারও বেশি নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে দল। এটি কোনো বিভাগীয় সমাবেশ নয়; তবু সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে এটি।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমাবেশ শুরু হবে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এটি দেশের রাজনীতিতে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, জনসভা ঘিরে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থামূলক প্রস্তুতি নিয়ে আগেই রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে গোয়েন্দা পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি থাকবে। সেই সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।
Related News
নির্বাচনে মানতে হবে সিলেট পুলিশের যেসব নির্দেশনা
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হতেRead More
‘সিলেট-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন’
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের ব্যবসায়িকRead More



Comments are Closed