ইরাকের মতো করেই ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৪০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর এবার ভেনেজুয়েলায় সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরকে বন্দি করতে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোর পর্যন্ত দেশটির রাজধানী কারাকাসে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় মার্কিন সেনাবাহিনী; বিমান থেকে ফেলা হয় একের পর এক বোমা।
মার্কিন বাহিনীর এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪০ জন মারা গেছেন সেখানে। সেনা সদস্যদের পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন অনেক সাধারণ নাগরিকও। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রক্তক্ষয়ী এ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে নিউইয়র্কে উড়িয়ে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। ভেনেজুয়েলার এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেইসঙ্গে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার মাটিতে নামার আগে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ব্যাপক আকারে অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনা নামাতে পারে। এরপর সেই সেনারাই মাদুরোর অবস্থানে হামলা চালায়।
নিহতের সংখ্যা কিংবা অভিযানের বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার ভোরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনাকে ‘শক্তিশালী চমকপ্রদ প্রদর্শন‘ বলে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার স্বার্থ বোঝে না, এমন কারও হাতে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারি না।
সেইসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত এও জানান, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
এদিকে, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কৌঁসুলিরা শনিবার একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করেন। এতে মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অভিযোগসহ একাধিক অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরাক যুদ্ধের পর কোনও দেশে এমনভাবে হামলা চালিয়ে সরাসরি ক্ষমতা দখলের ঘটনা নজিরবিহীন। সমালোচকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় লাতিন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
Related News
মার্কিন হামলার পর বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে ইরানের জরুরি বার্তা
Manual8 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রথমবারের মতো সামরিক স্থাপনাগুলোরRead More
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা ইরানের, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা
Manual6 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল উদেদেRead More



Comments are Closed