সিলেট নগরীতে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ১২ অক্টোবর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত উন্নত নয়, সেখানে টাইফয়েড একটি সাধারণ রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রোগ প্রতিরোধে টিকা গ্রহণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) নগর ভবনে আয়োজিত টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন সংক্রান্ত এক অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সরকার বিনামূল্যে শিশুদের টাইফয়েড টিকা দিচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের সন্তানদের নিরাপদ রাখতে হবে।”
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারাদেশের মতো সিলেট নগরীতেও শুরু হচ্ছে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) ক্যাম্পেইন। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সহযোগিতায় পরিচালিত মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশু এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি বা সমমানের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে এক ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।
মোহাম্মদ রেজাই রাফিন আরও বলেন, “অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে টিকা নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। করোনাভাইরাস টিকাকেন্দ্রিক গুজবের মতো টাইফয়েড টিকা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হতে পারে। এসব গুজব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” তিনি জানান, এই ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত এবং ইতিমধ্যে নেপাল ও পাকিস্তানে শতভাগ সফলভাবে প্রয়োগ হয়েছে। “ভয়ের কোনো কারণ নেই। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ—ইন্টারনেটে সার্চ করলেই এই টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে,” বলেন তিনি।
অবহিতকরণ সভায় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সিসিকের ইপিআই টিকা কেন্দ্র ছাড়াও নগরীর চারটি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে ১২ অক্টোবর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “ছিন্নমূল ও পথশিশুরাও এই টিকা পাবে, এমনকি যাদের জন্মনিবন্ধন নেই তারাও টিকা গ্রহণ করতে পারবে। জন্মসনদবিহীন শিশুরা একবারের জন্য একটি ভ্যাকসিন সনদ পাবে। আর নিবন্ধিত শিশুরা অনলাইন থেকে যে কোনো সময় তাদের সনদ ডাউনলোড করতে পারবে।”
সভায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের সার্বিক দিক তুলে ধরেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. সুফী মো. খালিদ বিন লুৎফর।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত এরশেদ, সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আলী ফরিদ আহমেদ, বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী পরিচালক আবুল মনসুর আসজাদ, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জনি রঞ্জন দে, জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেটের সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রোগ্রামার তোফায়েল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
Related News
সিলেটে মসলা মিলে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর কালিঘাট বাজারে নানা অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়ায় ভাই ভাই মসলাRead More
সিলেটে গ্রাহকের গোপন ভিডিও ধারণ ও অপপ্রচারের অভিযোগে ২জন গ্রেপ্তার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার মেহমান রেস্টুরেন্টে গ্রাহকের গোপন ভিডিও ধারণ এবং তা নিয়েRead More



Comments are Closed