সিলেটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটক ১৪
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল থেকে বাটা, কেএফসিসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলো, নগরীর কাজীটুলা এলাকার মো. রাজা মিয়ার ছেলে মো. রাজন (১৯), একই এলাকার আরব আলীর ছেলে ইমন (১৯), দ্বীন ইসলামের ছেলে মো. রাকিব (১৯), লাল সাদ আহমদের ছেলে মিজান আহমদ (৩০), সওদাগরটুলা এলাকার মৃত আবুল বাশার মিয়ার ছেলে মো. আব্দূল মোতালেব (৩৫), গোয়াইটুলা এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে সাব্বির আহমদ (১৯), কোম্পানীগঞ্জের ফরিদ মিয়ার ছেলে জুনাইদ আহমদ (১৯), মিরের ময়দান এলাকার মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে মো. রবিন মিয়া (২০), শাহী ঈদগাহ এলাকার মো. মহছন আহমদের ছেলে মোস্তাকিন আহমদ তুহিন (১৯), দরগাহ গেইট এলাকার আব্দুল ছাত্তারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০), শেখঘাট এলাকার শামীম আহমদের ছেলে মো. রিয়াদ (২৪), বালুচর নতুন বাজার এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে মো. তুহিন (২৪), বটেশ্বর বাজারের সেলিম রেজার ছেলে আল নাফিউ (১৯) এবং নোয়াখালীর চাদমিল থানার পশ্চিম নাহার কিল গ্রামের সৈয়দ আলতাফ মানিকের ছেলে সৈয়দ আল আমিন তুষার (২৯)।
এদিকে, লুট করা জুতা বিক্রির জন্য ফেসবুকে দেয়া হচ্ছে বিজ্ঞাপন। বিষয়টি নজরে আসে পুলিশের। পরে পুলিশের ক্রেতা সেজে ওই পোস্ট দাতাকে আটক করেছে। আটককৃত মামুনুল হক নগরীর সাদিপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।
মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরের শিবগঞ্জের সাদিপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা সাপেক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বিভিন্ন এলাকায় আমাদের টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে নজরদারি চলছে।’
উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে সোমবার দিনভর উত্তাল ছিল সিলেট নগরী। তৌহিদী জনতার মিছিল থেকে কেএফসি, বাটা জুতার শো-রুমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠেছে বিভিন্ন মহলে। দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
তাৎক্ষণিক পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নিলেও সন্ধ্যা থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযানে চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাটে জড়িত ১৪ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল থেকে নগরের মীরবক্সটুলা কেএফসিতে ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়। এ সময় কেএফসির মালামাল বাইরে এনে চুরমার করা হয় এবং কেএফসি ও রয়েল মার্কস হোটেলের ক্যাশ থেকে নগদ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে।
তৌহিদী জনতা ইসরায়েলি পণ্য কোকাকোলো, স্প্রাইটসহ কোমল পানীয় রাস্তায় ফেলে ধ্বংস করেন। ভাঙচুর করা হয় নবনির্মিত রয়েল মার্কস হোটেলও। ভবনের গ্লাসগুলো ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি কেএফসির আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রিক সামগ্রী টিভি, ফ্রিজ, ওভেনসহ সবকিছু রাস্তায় বের করে ভাঙচুর করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও এক পাশে নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এ ছাড়া বাটার সবকটি শো-রুমেও ভাঙচুর, লুটপাট করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে শপিংমল ইউনিমার্টে ভাঙচুরকালে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা চলে যায়। এ সময় ইউনিমার্টের সামনে সেনা সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে।
Related News
শহীদ জিয়া গণতন্ত্র ও জনমুখী রাষ্ট্রচিন্তার অমর প্রতীক : কাইয়ুম চৌধুরী
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকRead More
শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৪৫তম শাহাদাৎRead More



Comments are Closed