সিলেটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটক ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে ৩ লুটপাটকারীকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
সোমবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
আটকৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ভাটি পাড়া এলাকার মো. রাজা মিয়ার ছেলে মো. রাজন, নগরীর কাজীটুলার আরব আলী ছেলে ইমন, কাজীটুলার দ্বীন ইসলামের ছেলে মো. রাকিব।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ফিলিস্তিনিদের উপর বর্বরোচিত হামলা, হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালানোর প্রতিবাদে সারাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটেও প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা কেএফসি, বাটা, ইউনিমার্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। আমরা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত থাকা ৩ জনকে আটক করেছি।
তিনি আরো বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা সাপেক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বিভিন্ন এলাকায় আমাদের টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, ফিলিস্তিনের নির্মম হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে তৌহিদী জনতার আন্দোলনের ভিড়ে একদল দুর্বৃত্ত নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় প্রশাসনের সাড়াশি অভিযানে নামে নগরীর পুলিশ। সাড়াশি অভিযানের সময় তাদের আটক করা হয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়;
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বরতম গণহত্যার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ মিছিল থেকে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান দাবি করে কেএফসি রেস্টুরেন্ট, বাটা, ইউনিমার্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান ও রেস্টুরেন্ট যেখানে কোক ও পেপসি আছে সেখানে ভাঙচুর করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার জোহরের নামাজ শেষে সিলেটের বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিভিন্ন ব্যানারে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন কোর্ট পয়েন্টে এসে জড়ো হন। এখান থেকে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে যান। সেখান থেকে বিক্ষোভরত লোকজন দরগাহ গেইট ও জিন্দাবাজার এলাকার বাটার শোরুম ও আম্বরখানা এলাকাস্থ ইউনিমার্টে ভাঙচুর করে। এসময় বাটার শোরুমের গ্লাস ভেঙে ভেতরে ঢুকে সেখান থেকে জুতা লুটপাট করা হয়। তাছাড়া কিছু জুতায় আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়।
ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান দাবি করে ভাঙচুর করা হয় মীরবক্সটুলাস্থ কেএফসি রেস্টুরেন্টে। ওই ভবনে থাকা আরো ২টি রেস্টুরেন্টেও একই ঘটনা ঘটে। আসবাবপত্র ও গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়।
এ ছাড়াও কোক রাখার জন্য জালালাবাদ এলাকার ফুলকলি, চৌহাট্টাস্থ আলপাইন রেস্টুরেন্ট, আম্বরখানার কয়েকটি ডিপার্টমেন্টালি স্টোরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার ডিপার্টমেন্টালি স্টোর ও দোকানে হামলা চালানো হয়। এসব দোকান থেকে কোক, পেপসি, ফান্টাসহ বিভিন্ন পণ্য ইসরায়েলি দাবি করে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়াও কিছু মানুষ যে দোকানে কোক বা ইসরাইলি পণ্য পাচ্ছেন সেখানে ভাঙচুর করার খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া চায়না মার্কেটে কয়েকটি মোবাইল ফোনের দোকানে হামলার চেষ্টা হলেও স্থানীয়রা তা প্রতিরোধ করেন।
Related News
শহীদ জিয়া গণতন্ত্র ও জনমুখী রাষ্ট্রচিন্তার অমর প্রতীক : কাইয়ুম চৌধুরী
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকRead More
শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৪৫তম শাহাদাৎRead More



Comments are Closed