গোলাপগঞ্জে এরাল বিল নিয়ে সংঘর্ষের আশংকা
গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা: সিলেটের গোলাপগঞ্জের এরাল বিল (এরাল গ্রুপ জলমহাল) নিয়ে ত্রিমুখী বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিলে মাছচাষ, আহরন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় লোকজন, ইজারাদার ও রাজনৈতিক নেত্বৃবৃন্দদের মধ্যে এই বলেন রোধ দেখা দিয়েছে। যেকোন তাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। বিলের প্রকৃত মালিক কে? এমন প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মধ্যে।
এদিকে বিলের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনদের সাশেস্তা করতে দেয়া হচ্ছে একের পর এক মামলা। এসব মামলা দায়েরের পর প্রায় পুরুষশ‚ন্য হয়ে পড়েছে এই গ্রামগুলো। এদিকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে বিলের সাব ইজারা নিয়ে মামলা ও হয়রানির প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।
জানা যায়, সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ১৪২৮ বাংলা হইতে ১৪৩৩ বাংলা পর্যন্ত জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা নেন ’যুগান্তর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ’’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়মবহিভর্তভাবে নীতিমালাকে উপেক্ষা করে মুনাফা পেয়ে বিগত ১৪২৮ বাংলা থেকে ১৪৩৩ বাংলার এরাল বিল (এরাল গ্রুপ জলমহাল) ইজারা নিয়ে উপজেলার আমুড়া এলাকার কামরান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিরে কাছে সাব ইজারা প্রদান করেন। বর্তমানে কামরান চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তার ছেলে ও ভাই দেখভাল করেন এই জলমহালটি। সরকারী জলমহাল আইন ২০০৯ এর বিধি (৯) এর নিয়মবহিভূর্ত। অমৎস্যজীবীরা সাব ইজারা নিয়ে প্রভাবশালীরা এরাল বিল (এরাল গ্রুপ জলমহালে) এলাকার নিরীহ লোকজনের উপর নির্যাতন চালানো হয়। গ্রামরাসীর বিরুদ্ধে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক মামলা। একের পর এক মামলা, হয়রানি ও হুমকি-ধমকির প্রতিকার চেয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর দেয়া এই আবেদনে তারা মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি বর্তমানে তাদের তদন্ত চলমান রেখেছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, তৃতীয় পক্ষের কাছে এরাল বিলটি সাব ইজারা প্রদান করায় এরাল বিল (এরাল গ্রুপ জলমহাল) সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। এদিকে সাব ইজারা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্ভর স্মারক নং- ১১১২ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী মান্নান সাব ইজারার সত্যতা পেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। বর্তমানে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এরাল গ্রুপ জলমহালের সাব ইজারাসহ নানা অনিয়মের বিষয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
অপর দিকে আদালতে সাব ইজারাদার মৃত কামরান আহমদ চৌধুরীর ছেলে এজাজ আহমদ চৌধুরীর এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সিআর মামলা নং- ৪১৮/২০২২ এর তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেছে পুলিশ। এতে পুলিশ ৪৪৭/৩৯২/৫০৬(২)/৩৪ ধারা পেনাল কোড ১৮৬০ এবং বিজ্ঞ আদালতের স্মারক নং ৭৪২, তারিখ-২৮ ডিসেম্বর ২০২২ইং এর আলোকে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রæয়ারী পুলিশ তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেন মামলার বাদী এজাজ আহমদ চৌধুরীর পিতা কামরান আহমদ চৌধুরী হ্ইতে ইজারা প্রাপ্ত ’যুগান্তর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ’ এর ইজারা প্রাপ্তদের নিকট থেকে ১৪২৮-১৪৩৩ বাংলা পর্যন্ত ৬বছরের জন্য এরাল বিল (এরাল গ্রুপ জলমহাল) সাব ইজারা নিয়ে ভোগাধিকার রক্ষণা বেক্ষণসহ মাছ চাষ করিয়া আসলে কামরান চৌধুরী মারা যাওয়ায় তার ছেলে ও মামলার বাদি এজাজ আহমদ চৌধুরী প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে উল্লেখ করেন। এদিকে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯ এর বিধি (৯) এ উল্লেখ রয়েছে ইজারাকৃত জলমহাল গুলি কোন ক্রমেই সাবলীজ দেয়া যাবে না। যদি সাবলীজ দেয়া হয়, তাহলে উক্ত জলমহালের ইজারা জেলা প্রশাসক/ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাতিল করতে পারবেন এবং জামানতসহ জমাকৃত ইজারা ম‚ল্য সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি ওই ইজারা গ্রহিতা সমিতি পরবর্তী ৩ বছর কোন জলমহালে ইজারার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। তৃতীয় পক্ষ এরাল বিল (এরাল গ্রæপ জলমহাল) সাব ইজারা নেয়ার ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
এলাকাবাসী জানান, এরাল বিল (এরাল গ্রুপ জলমহাল) এর পাড়ের মানুষজনদের মধ্যে পরিকল্পিত ভাবে ব্যক্তি স্বার্থের জন্য মামলা দিয়ে হয়রানি করার ফলে বর্তমানে আমুড়া ইউপির বাঙ্গালীগুল এলাকাটি প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এসব গ্রামের দিনমজুর, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
জানতে চাইলে শনিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ ফুয়াদ বলেন, এরাল বিল নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করে এলাকাবাসী। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল জানান, এরাল বিল (এরাল গ্রুপ জলমহালটি) উপজেলার ’যুগান্তর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ’নামে একটি সংগঠনকে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। এলাকা থেকে অভিযোগ করা হয়েছে বৈধ ইজারাদাররা অমৎস্যজীবী সংগঠনের কাছে ১৪২৮-১৪৩৩ বাংলা পর্যন্ত সাব ইজারা প্রদান করছেন। উক্ত বিষয় নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেে তদন্ত চলমান রয়েছে। সাব ইজারা প্রদানের সত্যতা পাওয়া গেলে জলমহাল আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Related News
সিলেটের কালাগুলে ‘ভূমিখেকো’র বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদ সভা
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সদর উপজেলার কালাগুল মৌজার নিরীহ কৃষকদের ওপর কথিতRead More
সিলেটে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে আবারও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। এবার দক্ষিণ সুরমারRead More



Comments are Closed