জাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতাকে বহিষ্কার, শিক্ষার্থীদের নিন্দা ও প্রতিবাদ
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে ধর্ষণ বিরোধী গ্রাফিতি অঙ্কনের ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের দুই নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রীয় আইনে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন ৪৭ তম আবর্তনের অমর্ত্য রায় ও ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী। তারা যথাক্রমে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে রাত সাড়ে নয়টায় রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সচিব আবু হাসান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের দেয়ালে পূর্বে আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি মুছে একটি ধর্ষণ বিরোধী গ্রাফিতি অঙ্কন করে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে এই চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের এই নেতারা। ব্যঙ্গচিত্রে একটি নারীর অবয়ব, ছয়টি মাথার খুলিসহ একটি পতাকা আঁকা হয়। এর পাশেই লিখা হয় ‘ধর্ষণ ও স্বৈরাচার থেকে আজাদী’।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি মুছে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করায় বিক্ষুব্ধ হয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রায় ৮৩ ঘন্টা এক টানা অনশন করেন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম। এক পর্যায়ে উপাচার্য এসে এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত শেষে সিন্ডিকেট সভায় শাস্তি প্রদানের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙেন ছাত্রলীগের এই নেতা।
এদিকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা ২১ শে ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাতটায় মশাল মিছিল করে। মিছিল শেষে মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সহ-সভাপতি আশফার রহমান নবীন জানান “ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী এবং অমর্ত্য রায়কে বহিষ্কার আদেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তা হয়েছে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও অন্যায্যভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ ভঙ্গের কোনো অভিযোগ আসলে তার প্রেক্ষিতে শোকজ করা হয় তারপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তারপর এর রিপোর্ট ডিসিপ্লিনারি বোর্ডে যায়, তারপর তা সিন্ডিকেটের কাছে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি ডিসিপ্লিনারি বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি সিন্ডিকেটে চলে যায়, তারপর তাড়াহুড়ো করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্র আইনে বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সম্পুর্ণ প্রক্রিয়া নিয়মবহির্ভূতভাবে হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জাতিরজনকের প্রতিকৃতি অবমাননার যে অভিযোগ তা উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। ক্যাম্পাসে ছাত্র ইউনিয়নের যে দূর্নীতি বিরোধী অবস্থান, সে অবস্থানের কারণে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি যে ক্ষোভ তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে এই সিন্ডিকেটের রায়ের মাধ্যমে বলে আমরা মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, ” বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি মোছার বিষয়ে বলতে গেলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গ্রাফিতি মোছার ক্ষেত্রে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থানের মাধ্যমেই একই দেয়ালে পুনর্বার গ্রাফিতি করা হয়। কিন্তু তিন বছর আগে করা এই গ্রাফিতি কে করেছে তার কোনো চিহ্ন নেই। ক্ষয়ে যাওয়া বা প্রায় মুছে যাওয়া গ্রাফিতির উপর নতুন গ্রাফিতি করা তা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু চলমান ধর্ষণ বিরোধী যে আন্দোলন তা ভিন্ন খাতে সরিয়ে নেয়ার হীন উদ্দেশ্যেই ছাত্র ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা হিসেবে চালানো হয়েছে এবং জাবি প্রশাসন তা স্বার্থমত ব্যাবহার করে অমর্ত্য রায় এবং ঋদ অনিন্দ্য গাঙ্গুলীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করে। ছাত্র ইউনিয়ন এই অন্যায্য বহিষ্কার আদেশ মানে না। এবং এর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলবে।”
Related News
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে নিজেদের মেয়র প্রার্থীRead More
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল জামায়াত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের মেয়র প্রার্থীরRead More



Comments are Closed